জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেজ্যুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। বুধবার (২০ নভেম্বর) ওআইসি (ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথভাবে উপস্থাপিত “মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি” শীর্ষক রেজ্যুলেশনটি জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর সমর্থন লাভ করে। এই রেজ্যুলেশনে জাতিসংঘের ১০৬টি সদস্য রাষ্ট্র কো-স্পন্সর করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক সমর্থনের প্রতিফলন।  
রেজ্যুলেশন গৃহীত হওয়ার পর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত বলেন, “আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বপ্রণোদিত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সংকটের টেকসই সমাধান ছাড়া আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”  
রেজ্যুলেশনটিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন করা হবে। এতে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য একটি কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।  
উল্লেখ্য, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে এই ধরনের কনফারেন্স আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।  
এই রেজ্যুলেশনে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত হত্যা, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ধ্বংস করা, মানবিক সহায়তায় বাধা প্রদান এবং শিশুদের জোরপূর্বক নিয়োগসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে রেজ্যুলেশনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়।  
রাষ্ট্রদূত মুহিত তার বক্তব্যে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতির জটিল ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “গত সাত বছরে সংকটের মূল কারণগুলো নিরসনে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।”  
রেজ্যুলেশনে আসিয়ানসহ আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর ভূমিকার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে এবং সংস্থাটির পাঁচ-দফা ঐকমত্য বাস্তবায়নের উদ্যোগগুলোকে সমর্থন জানানো হয়েছে।  
-পার্বত্য সময়