কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প এবং আশ্রয়দাতা স্থানীয় কমিউনিটিতে মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুহার কমাতে চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করেছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন হিউম্যানিটারিয়ান এইড।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইউএনএফপিএ’র প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা সামগ্রীর প্রথম চালান হস্তান্তর করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ৪৬টি মাতৃমৃত্যু রেকর্ড করা হয়। ২০২১ সাল থেকে মাতৃমৃত্যুর হার ৪৫ শতাংশ কমে আসলেও এখনো প্রতি মাসে গড়ে তিন থেকে পাঁচজন মা গর্ভাবস্থাজনিত জটিলতায় মারা যাচ্ছেন।

এই চিকিৎসা সরঞ্জামগুলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ফ্রেন্ডশিপ ফিল্ড হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছে। হাসপাতালটি ৩৩টি শরণার্থী ক্যাম্পের নারীদের মাতৃ ও নবজাতক সেবা প্রদান করে থাকে।

বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ’র প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং বলেন, ইইউ এবং ইউএনএফপিএ’র এই অংশীদারিত্ব রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রতিটি মা ও নবজাতকের জন্য জীবনরক্ষাকারী সেবা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই চিকিৎসা সামগ্রী ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও কার্যকরভাবে জীবন বাঁচাতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সহায়তা বিভাগের প্রধান ডেভিড জাপ্পা বলেন, নিরাপদ সন্তান প্রসব কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে জরুরি প্রসূতি সেবায় সময়মতো প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা মাতৃমৃত্যু কমানোর মূল চাবিকাঠি।

তিনি আরও যোগ করেন, প্রাণঘাতী গর্ভাবস্থার জটিলতা মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা জোরদার করতে ইউএনএফপিএ ও বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকতে পেরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গর্বিত।