মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ও সংঘাতের কারণে গত ১৮ মাসে নতুন করে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। ২০১৭ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক রোহিঙ্গা প্রবেশের ঘটনা বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
শুক্রবার (১১ জুলাই) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবর বালুচ জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে এসব রোহিঙ্গা এসে উঠেছেন। এর মধ্যে এক লাখ ২১ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছেন। বাকিরা এখনো অনিবন্ধিত অবস্থায় শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। নতুন আগতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
বাবর বালুচ বলেন, “২০১৭ সালের পর এবারই সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। তখনও যেমন প্রাণ বাঁচাতে পালাতে হয়েছিল, এবারও রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা, নিপীড়ন এবং সামরিক হামলা থেকে রক্ষা পেতে তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন।”
তিনি আরও জানান, মাত্র ২৪ বর্গকিলোমিটারের ভেতর বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। যা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ মানবিক আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার যেভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, তার জন্য ধন্যবাদ ও প্রশংসা জানায় ইউএনএইচসিআর।
তীব্র তহবিল সংকটে মানবিক সেবা হুমকির মুখে
রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি সহায়তা অব্যাহত রাখতে ইউএনএইচসিআর ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিল চেয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর মাত্র ৩৫ শতাংশ তহবিল পাওয়া গেছে।
বাবর বালুচ বলেন, “আমাদের প্রয়োজন ও প্রাপ্ত অর্থের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। এ ঘাটতি রোহিঙ্গাদের খাদ্য, চিকিৎসা এবং শিক্ষাসহ প্রতিদিনকার প্রয়োজন মেটানোয় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। কারণ তারা পুরোপুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি দ্রুত প্রয়োজনীয় অর্থ না আসে, তাহলে সেপ্টেম্বর থেকেই রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই খাদ্য সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”
বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দাতারা সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কারণে ত্রাণ সহায়তা তহবিল কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রিত শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত অর্থও কমে যাচ্ছে।
নতুন করে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশ করায়, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ইউএনএইচসিআর বলছে, অতিরিক্ত তহবিল না পাওয়া গেলে শুধু নতুন আসা নয়, পুরনো শরণার্থীদের জন্যও জরুরি সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে।

-পার্বত্য সময়