বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো অর্থ প্রদান অব্যাহত রাখলেও ভবিষ্যতে এই অর্থায়ন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটন আপাতত সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ না করলেও একাধিক খাতে ব্যয়সংকোচন বা ‘ফান্ড কাট’ পরিকল্পনা করছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সহায়তায় ৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার বরাদ্দ দিয়েছে, যা সাময়িক স্বস্তি আনলেও ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা কী পরিমাণ থাকবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক সহায়তা নীতিতে ক্রমাগত পরিবর্তন, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রতি উদাসীনতা বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গার ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে আগামী সপ্তাহেই ঢাকা সফরে আসছেন ট্রাম্প প্রশাসনের তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকায় আসছেন নিকোল এন চুলিক, যিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। একদিন পরই ঢাকায় পৌঁছাবেন এন্ড্রু হেরাপ, যিনি পূর্ব ও প্যাসিফিক ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এবং সুসান স্টিভেনসন, যিনি বর্তমানে মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানান, এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও কৌশল নির্ধারণ করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক দাতাদের সহায়তায় দীর্ঘদিন টিকে থাকা রোহিঙ্গা মানবিক তহবিল যদি সংকুচিত হয়, তবে তা কক্সবাজারের ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জন্য চরম সংকট তৈরি করবে। ফলে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক চাপ মোকাবিলার পাশাপাশি বিকল্প সহযোগী খুঁজে পাওয়ার বিষয়েও ভাবতে হতে পারে।
-পার্বত্য সময়


