রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৭০ কোটি ডলারের দুটি প্রকল্প চালু হয়েছে। ‘ইনক্লুসিভ সার্ভিসেস অ্যান্ড অপরচুনিটিস ফর হোস্ট কমিউনিটি অ্যান্ড ডিসপ্লেসড রোহিঙ্গা পপুলেশন (আইএসও)’ এবং ‘হোস্ট অ্যান্ড রোহিঙ্গা এনহ্যান্সমেন্ট অব লাইভস (হেল্প)’ নামের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্প দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এ প্রকল্প চালু করতে নানা জটিলতা পেরোতে হয়েছে। উদ্বোধন মানে এখন মূল কাজ শুরু। সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করাই বড় চ্যালেঞ্জ।”
বাংলাদেশ ও ভুটানে বিশ্বব্যাংকের নতুন ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, “আট বছরেরও বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গা সংকট চলছে। এতে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও চাপে পড়তে হয়েছে। বিশ্বব্যাংক শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে আছে। স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “অর্থসংকটের কারণে অনেক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। তাই এ প্রকল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশ্বব্যাংকের অপারেশনস ম্যানেজার গেইল মার্টিন সতর্ক করে বলেন, “সময়সীমা মেনে প্রকল্প শেষ না হলে খরচ বাড়বে এবং কার্যকারিতা কমে যাবে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।”
২০২৮ সালের ৩০ জুন প্রকল্পগুলো শেষ হওয়ার কথা। বাস্তবায়নে কাজ করবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এলজিইডি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বন বিভাগ ও পরিবেশ বিভাগসহ একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান।

-পার্বত্য সময়