কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের শাহজাহান দ্বীপ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত হানিফ লম্বাবিল গ্রামের ফজল করিমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নাফ নদীর সীমান্তবর্তী অংশে মাছ ধরার সময় হঠাৎ একটি মাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে হানিফ মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

এর আগের দিন রোববার একই সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান (৯) গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। টানা এসব ঘটনার প্রতিবাদ ও সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে সোমবার হোয়াইক্যংসহ টেকনাফ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মাইন বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা কক্সবাজার–টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। একই সঙ্গে গুলিবিদ্ধ শিশুর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত ও সীমান্তে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।

উখিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এক যুবক মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন- এমন খবর আমরা পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সীমান্তসংলগ্ন কিছু এলাকায় মাইন পুঁতে রাখা থাকতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।

হোয়াইক্যংয়ের লম্বাবিল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন বলেন, সকালে আমরা গুলিবিদ্ধ শিশুর চিকিৎসা ও সীমান্তবাসীর নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নিই। এর মধ্যেই খবর আসে, নাফ নদীতে এক জেলে মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। এতে মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়।

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল বলেন, আজ আবার আমার এলাকার একজন জেলে মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগের দিন মিয়ানমারের গুলিতে একটি শিশু মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। সীমান্তবাসী চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম জানান, সীমান্তে চলমান গোলাগুলির প্রেক্ষাপটে স্থানীয়দের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। সড়ক অবরোধ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

টানা গোলাগুলি, সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ ও সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনায় টেকনাফের সীমান্তবর্তী জনপদে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।