কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীর মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে পা হারালেন মো. ফিরোজ (৩০) নামের এক যুবক। সীমান্তে পুঁতে রাখা ভয়ঙ্কর মাইন বিস্ফোরণে তার ডান পা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (৬ এপ্রিল) দুপুরে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তোতার দ্বীপ সংলগ্ন নদীতে। ফিরোজ হোয়াইক্যংয়ের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা আলী আহমেদ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, “ফিরোজ প্রতিদিনের মতো নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। জাল ফেলতে ফেলতে একসময় সীমান্তঘেঁষা এলাকায় চলে যান। সেখানেই মাটির নিচে পুঁতে রাখা একটি মাইন বিস্ফোরিত হলে মুহূর্তেই তার পা উড়ে যায়।”
বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশে থাকা স্থানীয়রা ছুটে এসে গুরুতর আহত ফিরোজকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এটি প্রথম নয়। নাফ নদী ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নানা সময় মাইন পুঁতে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে। যার ভয়াবহ ফল ভোগ করছে বাংলাদেশি সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে জেলে ও কৃষকরা।
স্থানীয়রা বলছেন, “এই তো মাত্র মাছ ধরতে গিয়েছিল ফিরোজ। এখন তার সারা জীবনের স্বাভাবিকতা হারিয়ে গেল। এর দায় কে নেবে?”
বছরের পর বছর ধরে এই সীমান্তে নিরাপত্তার নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যেভাবে মাইন পুঁতে রেখেছে, তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের শামিল। অথচ সীমান্তের বাংলাদেশি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও তেমন দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শক্ত প্রতিবাদ ও কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

-পার্বত্য সময়