রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাপানের প্রভাবশালী মানবিক নেতা ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সম্প্রতি জাপানের টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে সাসাকাওয়ার আয়োজিত এক নৈশভোজে দুই নেতা এই সংকটসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মানবিক ইস্যুতে আলোচনা করেন।
‘আপনি মিয়ানমারে সর্বজন শ্রদ্ধেয়’ : ইউনূস
ড. ইউনূস বলেন, “আমরা জানি, মিয়ানমারের সব পক্ষের কাছে আপনি গভীর শ্রদ্ধার পাত্র। এখনই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যৌথভাবে কাজ করার উপযুক্ত সময়।” উল্লেখযোগ্যভাবে, ইয়োহেই সাসাকাওয়া মিয়ানমারে ১৫০ বারেরও বেশি সফর করেছেন এবং দেশটির সরকার ও জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিন শান্তি ও মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে আসছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থানরত ১২ লাখ রোহিঙ্গার দুঃসহ বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, “প্রতি বছর প্রায় ৩৫ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে, যারা কোনো ভবিষ্যৎ, শিক্ষা বা নিরাপত্তার স্বপ্ন ছাড়াই বড় হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, মাদক চোরাচালান ও নিরাপত্তা হুমকির কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো এখন ‘বিস্ফোরক পরিস্থিতির’ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস ও মানবিক উদ্বেগ
বিশ্বব্যাপী দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইউনূস বিশেষভাবে ইউএসএআইডি’র সহায়তা স্থগিত হওয়ায় আইসিডিডিআরবি’র জীবন রক্ষাকারী গবেষণা কার্যক্রম হুমকিতে পড়েছে বলেও জানান। এ প্রেক্ষাপটে তিনি নিপ্পন ফাউন্ডেশনের সহায়তা কামনা করেন।
জবাবদিহিমূলক কূটনীতি ও মধ্যস্থতার সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সক্রিয়তা নতুন করে আলোচনার দ্বার খুলতে পারে। সাসাকাওয়া শুধু একজন মানবিক নেতা নন, বরং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও আস্থাভাজন কূটনীতিক হিসেবেও মিয়ানমারে তার গ্রহণযোগ্যতা অনন্য। ফলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার অচলাবস্থার মধ্যে তার মধ্যস্থতা কার্যকর হতে পারে।
নৈশভোজের শেষে ড. ইউনূস ইয়োহেই সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যাতে সরেজমিনে রোহিঙ্গা সংকট এবং স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কে তিনি নিজে অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।
নৈশভোজে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।
ড. ইউনূসের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কেবল মানবিক বিবেচনায় নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন এখন সময়ের দাবি। তবে সাসাকাওয়ার মতো কৌশলী ও গ্রহণযোগ্য নেতার সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া এই সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সাসাকাওয়ার সক্রিয় সহযোগিতা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সক্রিয়তা নতুন করে আলোচনার দ্বার খুলতে পারে। সাসাকাওয়া শুধু একজন মানবিক নেতা নন, বরং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও আস্থাভাজন কূটনীতিক হিসেবেও মিয়ানমারে তার গ্রহণযোগ্যতা অনন্য। ফলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার অচলাবস্থার মধ্যে তার মধ্যস্থতা কার্যকর হতে পারে।
সি
স্টাফ রিপোর্টার
২৯ মে, ২০২৫ ৭:৩২ পূর্বাহ্ন২ মিনিট পড়া

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দ্য নিপ্পন ফাউন্ডেশনের প্রধান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। ছবি : সংগৃহীত

