জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, আয়কর রিটার্নে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘শূন্য’ বা ভুয়া তথ্য প্রদর্শন করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
রোববার (১০ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, প্রতি বছর ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা থাকে। রিটার্নে করদাতাদের সারা বছরের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায় সম্পর্কিত সঠিক তথ্য প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর উল্লেখ করে, কোনো করদাতা প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ বা দায় গোপন করে এর যেকোনো একটি বা সবগুলোকে ‘শূন্য’ দেখালে তা বেআইনি। আয়কর আইন ২০২৩-এর ৩১২ ও ৩১৩ ধারায় এ ধরনের মিথ্যা ঘোষণাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু পোস্ট নজরে এসেছে, যেখানে রিটার্ন ফরমের সব ঘরে শূন্য লিখে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এনবিআরের মতে, এসব বিভ্রান্তিকর পরামর্শে প্রভাবিত হয়ে অনেক করদাতা ভুয়া ঘোষণা দিয়ে আসছেন, যা আইনত দণ্ডনীয়।
এনবিআর পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, ‘জিরো রিটার্ন’ নামে কোনো ব্যবস্থা আয়কর আইনে নেই। করদাতার প্রকৃত আয় করযোগ্য না হলেও সঠিক তথ্য প্রদর্শন করতে হবে। অর্থাৎ কর দিতে না হলেও ভুয়া ‘শূন্য’ তথ্য দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এনবিআরের ভাষায়, “করদাতার প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায় প্রদর্শন করা নাগরিক ও আইনি দায়িত্ব। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সবাই দেশের উন্নয়নে গর্বিত অংশীদার হবেন এবং মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে জেল-জরিমানার ঝুঁকি নেবেন না।”
এনবিআর সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে প্রায় ১৭ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ করদাতা কর দেননি, যদিও রিটার্ন জমা দিয়েছেন। বর্তমানে দেশে ১ কোটি ১২ লাখ টিআইএনধারী রয়েছেন, তবে বছরে মাত্র প্রায় ৪০ লাখ রিটার্ন জমা দেন।
চলতি অর্থবছর থেকে সকল করদাতাকে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

-পার্বত্য সময়