পার্বত্য জেলা রাঙামাটি শহরে চলাচলের অন্যতম মাধ্যম অটোরিকশা (সিনএনজি চালিত)। স্থানীয় যাত্রী ও পর্যটকরা এ অটোরিকশা দিয়ে চলাচল করে। অনেক সময় চালকদের বাজে আচরণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে পর্যটকদের হয়রানীর শিকার হতে হয়। দুর্ঘটনায় সময় এসব পরিবহন এবং চালকদের কোন তথ্য না থাকায় পুলিশের ব্যবস্থা নিতে হিমসিম খেতে হয়।
রাঙামাটিতে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা আনা এবং যাত্রী ও পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াতের লক্ষ্যে নিবন্ধিত অটোরিকশা ও চালকদের নিয়ে ডিজিটাল পরিবহন ডাটাবেজ চালু করেছে পুলিশ। ডাটাবেজ অনুযায়ী এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪১৬টি নিবন্ধিত অটোরিকশা এবং ১ হাজার ৬০০জন চালকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিবন্ধিত অটোরিকশায় নিরাপদ কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল স্টিকার লাগানো হয়েছে। যাত্রী ও পর্যটকেরা মোবাইল ফোন দিয়ে এসব কোড স্ক্যান করে চালকের ছবি, নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পারবেন। পরিবহনসেবার মান, চালকের আচরণ ও গাড়ির গতির বিষয়ে রেটিং দিতে পারবেন যাত্রীরা। যাত্রীদের দেওয়া মতামতের ভিত্তিতে চালকদের সামগ্রিক রেটিং নির্ধারণ করা হবে। জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ যাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ রেটিং, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং ফলোআপ করে। কোন অভিযোগ, অনিয়ম পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
রাঙামাটির অটোরিকশা চালক মো.শাহ আলম বলেন, পুলিশ আমাদের চালক ও অটোরিকশাগুলোকে ডিজিটাল তালিকায় নিয়ে এসেছে। এখানে কোন অবৈধ অটোরিকশা কিংবা ভুয়া চালকরা নিবন্ধিত হতে পারিনি, এটা আমাদের জন্য ভাল দিক।
রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটক জাফর সবুজ বলেন, এখানে ভ্রমণে এসে নতুন কিছু দেখলাম বেশিরভাগ অটোতে নিরাপদ কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল স্টিকার লাগানো হয়েছে। অটোতে উঠার আগে নিজের মোবাইল দিয়ে স্ক্যান করে উঠেছি। ঢাকা শহরে এমন উদ্যোগ নেওয়া গেল চুরি, ছিনতাইসহ অনেক দুর্ঘটনা কমে যাবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙামাটি জেলার সম্পাদক এম জিসান বখতিয়ার বলেন, রাঙামাটির এ পরিবহন খাতটিকে ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগটি প্রশংনীয়। আমাদের দেশে অনেক ভাল উদ্যোগ তদারকির অভাবে ভেস্তে যায়। পুলিশ যেন এ ভাল উদ্যোগটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্), নিরাপদ রাইড ও ‘অনলাইন বাস টার্মিনাল’ উদ্যোক্তা মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, রাঙামাটি একটি পর্যটন শহর এবং চলাচলের অন্যতম বাহন অটোরিকশা। এ পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে অনেক ধরণের দুর্ঘটনা কমে যাবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনেকগুলো সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো সমাধান করা হয়েছে। অনেক অপরাধের বিরদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বলেন, পাশাপাশি ‘অনলাইন বাস টার্মিনাল’ ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যটক ও যাত্রীবাহী বাসের তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল পার্কিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সারা বছর রাঙামাটিতে প্রবেশকারী পর্যটকবাহী বাসগুলো রাঙামাটি শহরে প্রবেশের আগে ডিজিটাল নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ই-মেইল বা মোবাইল বার্তার মাধ্যমে বাসচালকরা পার্কিংয়ের তথ্য ও নির্দেশনা পাবেন। ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, চলতি বছরে ‘নিরাপদ রাইড’ এবং ‘অনলাইন বাস টার্মিনাল’ এর কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। এটি সরকার কর্তৃক জাতীয় ব্যবস্থা নয়; জেলা পুলিশের উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নিরাপদ যাত্রা, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দায়িত্বশীল সেবা, যাত্রী অংশগ্রহণ, প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারী, চালকের পরিচয়, আচরন ও সেবার জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং যাত্রীকে সড়ক নিরাপত্তার সক্রিয় অংশীদারে পরিণত করাই হলো এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।


