সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যাওয়া সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর সদস্যরা বর্তমানে সক্রিয় এবং তারা আরাকান পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত হচ্ছে—এমন দাবি করা হচ্ছে। কিছু পোস্টে ভিডিওটির সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠনের লোগো যুক্ত করে এটি সাম্প্রতিক ঘটনার ফুটেজ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। তবে, অনুসন্ধানে ভিডিওটির সময়কাল ও প্রেক্ষাপট নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ভিডিওটি রোহিঙ্গা সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের (এআরও) সামরিক কমান্ডার মৌলভী সালামত উল্লাহর নেতৃত্বে ২০২৪ সালে মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপের মিউ থু গি এলাকায় ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেছে

প্রাপ্ত তথ্য ও একাধিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ে ধারণ করা নয়। সূত্রগুলোর দাবি, ফুটেজটি ২০২৪ সালে মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপের মিউ থু গি এলাকায় ধারণ করা হয়েছিল। ওই বছরের মাঝামাঝি সময়ে মংডু টাউনশিপের মিউ থু গি এলাকায় অবস্থিত বিজিপি ব্যাটালিয়ন-৫, যা বর্তমানে আরাকান আর্মির (এএ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেই এলাকাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তু তিন তুনের তত্ত্বাবধানে এবং মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সমর্থনে কিছু রোহিঙ্গা সশস্ত্র সদস্য আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেয়।

সূত্র আরও জানায়, সংঘর্ষে অংশগ্রহণের আগে জান্তা সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত অস্ত্র নিয়ে নিজেদের সক্রিয়তা প্রদর্শন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কাছে প্রভাব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া তৎকালীন রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ এ কার্যক্রমে প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

কেন আবার ভাইরাল?

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নতুন করে প্রচারিত হওয়ার বিষয়েও নানা আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কথিত মাদক ব্যবসায়ী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতা নবী হোসেন ভিডিওটির সঙ্গে নিজস্ব সংগঠনের লোগো যুক্ত করে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ প্রচারণার মাধ্যমে সংগঠনটিকে সক্রিয় হিসেবে উপস্থাপন করা, আরাকান পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিদেশভিত্তিক ইসলামিক দাতা সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য অনুদান সংগ্রহের লক্ষ্যও এর পেছনে থাকতে পারে বলে সূত্রের দাবি।