নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে দুই রোহিঙ্গাসহ একাধিক ব্যক্তিকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুলসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. কাঞ্চন মিয়া (২৯) ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী মঞ্জুরুল মিয়া (২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোররাতে নিজ নিজ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা শনিবার বিকেলে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, শুক্রবার রাতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান পাঠানসহ ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- আউটসোর্সিং ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. আরিফ মিয়া (৩৪), আউটসোর্সিং স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার হীরা (৩০), রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের ওমর আলী (৪৯) এবং ভলাপাড়া গ্রামের মোকসেদ আলী (৪৪)।

মামলার এজাহারে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে অবৈধভাবে কয়েকজনের এনআইডি নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপও আপলোড করা হয়। তবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে সরেজমিনে তদন্ত পরিচালনা করার সময় এই বড় ধরনের তথ্য জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তীতে কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেও জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।

ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গত ২০ জুলাই জালিয়াতির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কাঞ্চন ও মঞ্জুরুলসহ নির্বাচন কার্যালয়ের প্রকল্পের চার কর্মচারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। আর ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধ এই জালিয়াতি প্রক্রিয়ায় সরাসরি সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, গ্রেফতার দুই আসামিকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জালিয়াতির সাথে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যানসহ বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।