২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২ দলের লড়াইয়ে একদিনেই দেখা গেল রোমাঞ্চ, অঘটন আর শেষ মুহূর্তের নাটক। টাইব্রেকারের হৃদয়ভাঙা পরাজয়ে বিদায় নিয়েছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

টাইব্রেকারে ডাচদের বিদায়, ইতিহাস গড়ল মরক্কো

মন্তেরেইয়ে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর লড়াই নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় শেষ হয়। এরপর টাইব্রেকারে দুই দলই একের পর এক শট মিস করলেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় মরক্কো।

৭২ মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও মাঠে নেমে গোল করার পর আবেগে ভেঙে পড়েন ডাচ তারকা। তবে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ইসা দিওপের হেডে সমতায় ফেরে মরক্কো।

অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে জাস্টিন ক্লুইভার্ট, কুইন্টেন টিম্বার ও ক্রিসেনসিও সামারভিল শট মিস করেন। মরক্কোর হয়ে শেষ শটে গোল করে দলকে স্মরণীয় জয় এনে দেন ইসমায়েল সাইবারি।

এই হারের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বার টাইব্রেকারে বিদায় নিল নেদারল্যান্ডস। শেষ ষোলোয় মরক্কোর প্রতিপক্ষ কানাডা।

জার্মানির টাইব্রেকার-অপরাজেয় রেকর্ড ভাঙল প্যারাগুয়ে

বোস্টনে আরেক নাটকীয় ম্যাচে জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে।

নির্ধারিত সময় ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো গোল হয়নি। যদিও অতিরিক্ত সময়ে জনাথন টাহর একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল হয়।

টাইব্রেকারে জার্মানির প্রথম শটই ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো হিল। পরে আরও একটি শট রুখে দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ম্যাচের নায়ক। পাঁচ শট শেষে স্কোর ছিল ৩-৩। এরপর সাডেন ডেথে জনাথন টাহ শট মিস করলে হোসে কানালে গোল করে প্যারাগুয়েকে এনে দেন ঐতিহাসিক জয়।

বিশ্বকাপে আগে চারবার টাইব্রেকারে খেলে কখনো হারেনি জার্মানি। সেই রেকর্ড ভেঙে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে শেষ ষোলোয় উঠল প্যারাগুয়ে। পরের রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স বা সুইডেন।

শেষ মুহূর্তে মার্তিনেল্লির গোলে বাঁচল ব্রাজিল

হিউস্টনে জাপানের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় ধুঁকতে থাকা ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।

প্রথমার্ধে জাপানের সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলেছে ব্রাজিল। ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়ে সেলেসাওরা।

দ্বিতীয়ার্ধে কোচ কার্লো আনচেলত্তির পরিবর্তনের পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ক্রস থেকে কাসেমিরো হেডে সমতা ফেরান। এরপর একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল পাচ্ছিল না ব্রাজিল।

শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ব্রুনো গিমারাইসের পাস থেকে মার্তিনেল্লির দারুণ ফিনিশিংয়ে আসে জয়সূচক গোল। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় ব্রাজিল।

এখন ব্রাজিলের সামনে আইভরি কোস্ট বা নরওয়ের চ্যালেঞ্জ। তবে প্রথমার্ধের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আনচেলত্তির দল, সেটিই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর।