বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ দাপুটে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। একদিকে ৪০ বছরের নকআউট জয়ের খরা কাটিয়েছে মেক্সিকো, অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে সহজেই সুইডেনকে বিদায় করেছে ফ্রান্স।
মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে ইকুয়েডরকে ২–০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ চার দশকের নকআউট ‘অভিশাপ’ কাটিয়েছে মেক্সিকো। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বুলগেরিয়াকে হারানোর পর বিশ্বকাপের নকআউটে এটাই তাদের প্রথম জয়। প্রথমার্ধেই হুলিয়ান কিনিয়োনেস ও রাউল হিমিনেজের গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্বাগতিকরা। যদিও বলের দখলে এগিয়ে ছিল ইকুয়েডর, তবে আক্রমণে ছিল মেক্সিকোই বেশি কার্যকর। ম্যাচের যোগ করা সময়ে ইকুয়েডরের পিয়েরো হেনকাপিয়ে লাল কার্ড দেখলে তাদের বিদায় আরও নিশ্চিত হয়।
এই জয়ে আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ধরে রাখল মেক্সিকো। একই সঙ্গে ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরা ১৯৫৮ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে শুরুর একাদশে নামা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা ডিআর কঙ্গো।
অন্য ম্যাচে নিউ জার্সিতে সুইডেনকে ৩–০ গোলে উড়িয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। ম্যাচের নায়ক ছিলেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে উসমান দেম্বেলের পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। বিরতির পর মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত দুটি অ্যাসিস্ট থেকে ব্র্যাডলি বারকোলা ও এমবাপ্পে আরও দুটি গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করেন।
এই ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করে ওলিসে এবারের বিশ্বকাপে নিজের অ্যাসিস্টসংখ্যা পাঁচে উন্নীত করেছেন, যা ১৯৯৪ সালের পর এক আসরে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা দাঁড় করিয়েছেন ১৮-তে। পাশাপাশি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১০ গোল করে তিনি এই আসরের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন।
মায়ের মৃত্যুতে এক ম্যাচ অনুপস্থিত থাকার পর ডাগআউটে ফিরে আসা ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হন। প্রতিটি গোলের পর খেলোয়াড়রা তাঁর কাছে ছুটে গিয়ে উদযাপন করেন জয়।
শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। অন্যদিকে মেক্সিকো মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড অথবা ডিআর কঙ্গোর। দুই দলের দাপুটে পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব আরও জমে উঠেছে।


