কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে একটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ফ্রি খতনা ক্যাম্পের পর দুই শতাধিক শিশুর মধ্যে বেশ কয়েকজনের রক্তক্ষরণ ও সংক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তিন সদস্যের একটি জরুরি মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়। টিমটি সংক্রমিত শিশুসহ শতাধিক শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে শিশুরা শঙ্কামুক্ত রয়েছে এবং দ্বীপেই তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনি ও রবিবার সেন্টমার্টিন অবকাশ রিসোর্টে আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ময়মনসিংহের আল মুগীজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় ২১০ শিশুর খতনা করা হয়। এর পর মঙ্গলবার থেকে কয়েকজন শিশুর মধ্যে রক্তক্ষরণ ও সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ে দ্বীপে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার সেন্টমার্টিন ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ২৪ শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকায় বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।
এরপর বুধবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়। টিমের সদস্যরা সংক্রমিত প্রায় ২০ শিশুসহ শতাধিক শিশুকে পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেন।
মেডিকেল টিমের চিকিৎসক ডা. নওশাদ আলম কানন জানান, ওষুধ সঠিকভাবে সেবন না করা এবং অসতর্কতার কারণে কিছু শিশুর মধ্যে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত শতাধিক শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে দ্বীপের বাইরে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
তিনি জানান, খতনা করা শিশুদের মধ্যে ১০ জনের ক্ষতস্থানে নতুন করে সেলাই এবং ১২ জনের ড্রেসিং করা হয়েছে। মোট প্রায় ২০ শিশুর মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
ডা. নওশাদ আলম কানন আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করতে হলে পর্যাপ্ত ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ক্যাম্পের অনুমতি দেওয়া হবে না।
মেডিকেল টিমে ছিলেন ডা. নওশাদ আলম কানন, ডা. আশরাফুল ইসলাম এবং উপসহকারী শাওখাত হোসেন মিতু।
টাকা নেওয়ার অভিযোগ
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, খতনা ক্যাম্পটি ফ্রি হিসেবে প্রচার করা হলেও অংশগ্রহণকারী শিশুদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, প্রথম ১০০ শিশুর কাছ থেকে ১০০ টাকা করে এবং পরবর্তী ১১০ শিশুর কাছ থেকে ৭০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
খতনা করানো কয়েকজন শিশুর অভিভাবকের অভিযোগ, ক্যাম্পে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশুর খতনা করানো হলেও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানা হয়নি। এ কারণে অবহেলা ও অসতর্কতার ফলে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আয়োজকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফাউন্ডেশনের নিবন্ধন নিয়েও প্রশ্ন
এ ঘটনায় টেকনাফের বাসিন্দা আব্দুর রহিম নুরী বলেন, চিকিৎসা ক্যাম্পের নামে একটি ফাউন্ডেশনের শতাধিক মানুষের সেন্টমার্টিনে যাওয়া এবং সেখানে বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, আল মোমিন ফাউন্ডেশনের কোনো নিবন্ধন নেই।
তবে ফাউন্ডেশনটির নিবন্ধনসংক্রান্ত দাবির স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংগঠনের ব্যানারে দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনিক চৌধুরী বলেন, শিশুদের অবস্থা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। তাদের চিকিৎসার জন্য টেকনাফ থেকে মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে এবং দ্বীপেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।


