অপরিকল্পিত উন্নয়ন, পাহাড় কাটা, খাল দখল, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও নিচু জমি ভরাট হয়ে যাওয়াসহ নানা কারণে প্রতিবছর বর্ষায় চট্টগ্রাম নগরী ডুবছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া মেগা প্রকল্পের কাজ দীর্ঘ সাত বছরেও শেষ না হওয়ায় এবারের বর্ষাতেও চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০১৭ সালের ৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প নামে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালে এই প্রকল্পে সেনাবাহিনীকে যুক্ত করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা দুই দফায় পুনর্মূল্যায়ন করে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সাথে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। এতকিছুর পরেও বর্ষায় জলাবদ্ধতার কষ্ট থেকে মুক্তি মেলেনি চট্টগ্রামবাসীর ।

কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কর্মকর্তারা (১২ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন খালের ওপর নতুন নির্মাণ করা ছয়টি রেগুলেটরের মধ্যে পাঁচটি বর্ষার আগেই খুলে দেওয়া হবে। এছাড়া বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই নগরীর ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনর্খননের কাজ শেষ হলে আসন্ন বর্ষায় নগরীর জলাবদ্ধতার মাত্রা অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল মো. ফেরদৌস আহমেদ বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পটি সরকারের একটি অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। ২০টি খালের পাড়ে প্রতিরক্ষা দেয়াল (রিটেইনিং ওয়াল) নির্মাণ করা হয়েছে। অধিকাংশ ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ ও সিটি করপোরেশন সমন্বয় করে কাজ করছে। গত এক মাসে আমাদের তিনটি সভা হয়েছে। নগরীর যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতার প্রকোপ বেশি সেসব এলাকা যৌথভাবে পরিদর্শন করে আমরা ছয়টি খাল বেছে নিয়েছি যা আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই পুনর্খনন করা হবে। এতে বাদুরতলা, চাক্তাই, মুরাদপুর, ষোলশহরসহ আরো কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মত, জলাবদ্ধতা নিরসনে নেয়া প্রকল্পটি বিশেষজ্ঞের মতামত না নিয়ে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের কাজ শুরুর পর নকশায় ঘষামাজা করতে হয়েছে। ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। সক্ষমতা না থাকার পরও সিডিএকে দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করানোর ফলে পদে পদে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে বহদ্দারহাট থেকে বলিরহাট পর্যন্ত নতুন খাল খননকাজ শুরু করে সিটি করপোরেশন। এরপর গত ১০ বছরে নতুন কোনো খাল খনন না হওয়ায় নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে জলাবদ্ধতার তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে। আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিতে গত এক বছরে অন্তত ১০ বার চট্টগ্রাম নগরী পানিতে ডুবেছে। অনেক খাল, ছড়া ও নালা নর্দমা দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। সিটি করপোরেশন রাস্তা সংস্কারের পরই তা কেটে ফেলছে ওয়াসা কিংবা পিডিবি। মূলত সমন্বয়হীনতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

-পার্বত্য সময়