চট্টগ্রামে কর্ণফুলীর তীরে এস আলম গ্রুপের অপরিশোধিত চিনির গুদামের আগুন ১৮ ঘণ্টায়ও পুরোপুরি নেভেনি। সোমবার (৪ মার্চ) বিকাল ৪টার আগে আগে কর্ণফুলী থানার ইছাপুর এলাকায় এস আলম রিফাইন্ড সুগার মিলের চারটি গুদামের মধ্যে একটিতে আগুন লাগে। তবে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। আগুন যাতে অন্য কোথাও ছড়াতে না পেরে সেদিকে সজাগ রয়েছেন তারা ফায়ার সার্ভিস।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভেতরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আগুন নির্বাপণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট।

কর্ণফুলী ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ বরঞ্জীব বড়ুয়া বলেন, রাত ১০টার পর থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে আগুন নেভানো যাচ্ছে না। আমরা বাইরে থেকে পানি দিচ্ছি, ফায়ার এক্সটিংগুইশার বল নিক্ষেপ করছি। ভেতরে প্রবেশ করে ফায়ার এক্সটিংগুইশার বল ও পানি যতক্ষণ দেওয়া যাবেনা ততক্ষণ বলা যাচ্ছেনা আগুন কখন কিভাবে নেভানো যাবে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে। আমাদের ১৬টি ইউনিট এ ঘটনায় যুক্ত। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বেশ কিছু ইউনিট স্টেশনে ফিরে গেছে। বর্তমানে সাতটি ইউনিট কাজ করছে।

কারখানার অন্য কোন স্থানে যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সোমবার (৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে তিনটার কিছু সময় পর কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে চরলক্ষ্যা এলাকায় এস আলমের চিনি কলে আগুন লাগে। বিকেল ৪টার দিকে খবর পেয়ে শুরুতে দুটি ইউনিট, পরে আরো ৫টি ইউনিটসহ মোট ৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবু আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় যুক্ত হয় আরো ৭টি ইউনিট। মঙ্গলবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের আরো দুটি ইউনিট যুক্ত হয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়। সবমিলিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৬ টি ইউনিট যুক্ত ছিল।

ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন।

আগুনের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুনুর রহমানকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল মালেক মুত্তাকিম বলেন, “কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, নগর পুলিশ, স্থানীয় ইউএনওসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে কমিটিতে।”

 

-পার্বত্য সময়