জনশূন্য হয়ে পড়েছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। পবিত্র রোজার মাসে পর্যটন কম আসায় খালি পড়ে আছে শহরের পাঁচ শতাধিক রিসোর্ট, হোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজ। শহরের সাত শতাধিক রেস্তোরাঁ যে কারণে রোজার প্রথম দিন থেকে বন্ধ রয়েছে। যে কারণে কক্সবাজারে ভ্রমণে আসা হাজার হাজার পর্যটক খবার নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন।
রোববার (১৭ মার্চ) কলাতলী পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে সৈকতজুড়ে অন্তত ৫০০টি কিটকট (চেয়ার-ছাতা) বসানো হলেও সব কটি খালি পড়ে আছে। বন্ধ রয়েছে সৈকতে নামার মুখের দোকানপাট। সৈকতের অন্যান্য পয়েন্টেও দেখা গেছে একই দৃশ্য।
সি-সেফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ বলেন, সাত-আট দিন আগে সুগন্ধা পয়েন্টে লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছিল। এখন সারা দিনে সমুদ্রে গোসলে নামছেন মাত্র দু-তিন হাজার। পর্যটক না থাকায় সৈকতকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছে।
এদিকে প্রথম রোজা থেকে থেকে সৈকত ও শহর এলাকার পাঁচ শতাধিক হোটেল খালি পড়ে আছে জানিয়ে কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ বলেন, শনিবার (১৬ মার্চ) হোটেলগুলোয় অতিথি ছিলেন পাঁচ হাজারের মতো। আজ সকালে চলে গেছেন এক হাজার। কয়েক দিন পর আরও কমে যাবে। রোজা শেষে ঈদুল ফিতরের টানা ৭ থেকে ৮ দিনের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামবে, তখন ব্যবসা-বাণিজ্যও চাঙা হবে।
হোটেল সিগ্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ ইমরুল ইসলাম ছিদ্দিকী বলেন, হোটেলে মোট ১৭৯টি কক্ষের মধ্যে ৮৭ শতাংশ খালি আছে। প্রতিটি কক্ষ সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ ছাড়ে দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, সব কটি হোটেল, রেস্তোরাঁয় সংস্কারের কাজ চালানো হচ্ছে। এগুলোর ৬০ শতাংশ কর্মচারীকে ঈদের অগ্রিম বেতন-বোনাস দিয়ে বাধ্যতামূলক এক মাসের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এখন হোটেল গেস্টহাউসগুলোয় চার থেকে পাঁচ হাজার পর্যটক আছেন।
কক্সবাজার শহরে রেস্তোরাঁ আছে সাত শতাধিক। রোজা উপলক্ষে সব কটি দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তিন দিনের ছুটিতে সৈকত ভ্রমণে আসা কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী দীপক সাহা (৪৭) দুপুর ১২টার দিকে শহরের সুগন্ধা সৈকত এলাকায় খাবারের সন্ধান করছিলেন। কিন্তু কোনো রেস্তোরাঁ খোলা না পেয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন। দীপক সাহা বলেন, নির্জন পরিবেশে সমুদ্র উপভোগ্য হলেও খাবার নিয়ে বেশ দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। কলাতলীর যে হোটেলে তাঁরা উঠেছেন, সেখানকার রেস্তোরাঁও বন্ধ। আশপাশের কোথাও রেস্তোরাঁ খোলা নেই। ফলে শুকনো খাবার খেয়ে থাকতে হচ্ছে।
কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম ডালিম বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারেও রোজাতে সব রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা হয়েছে। রেস্তোরার কর্মচারীদের অগ্রিম এক মাসের বেতন-বোনাস দিয়ে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পাঁচ থেকে ছয়টি হোটেল খোলা রাখা রয়েছে। ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন থেকে খোলা হবে শহরের সব রেস্তোরাঁ।
-পার্বত্য সময়

