ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর অধিকাংশ নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বুধবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। মাটিরাঙ্গা-সহ বেশ কিছু এলাকায় পাহাড় ধসের খবরও পাওয়া গেছে।
বৃষ্টিতে আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর, জিইসি মোড়, ওয়াসা মোড়, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, বাকলিয়ার ডিসি রোড, পশ্চিম খুলশি, রিয়াজউদ্দিন বাজার তিন পুলের মাথাসহ বিভিন্ন এলাকা হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। চকবাজারের কাঁচাবাজার থেকে ধনির পুল পর্যন্ত, পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিসের সামনে কোমর পরিমাণ পানিতে তলিয়ে গেছে। পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিসের সামনে কোমরপানি থাকায় অনেক সেবাপ্রার্থী অফিসে ঢুকতে পারেনি। সড়কে পানি প্রবাহিত হওয়ায় আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে যানবাহন চলাচলের চেষ্টা করে। কিন্তু ফ্লাইওভারের দুই প্রান্ত বহদ্দারহাট ও লালখানবাজারে যানজটে শত শত গাড়ি আটকে যায়।
শুক্রবার (২ আগস্ট) দুপুরে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে রাস্তায় মাটি পড়ে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হলেও হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরে মাটিরাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা থেকে মাটি সরিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সস্পূর্ণ মাটি সরানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্ত লাগোয়া ঘুমধুম ইউনিয়নে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের স্রোতে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত তিনদিন এক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল গেল কয়েক বছরের রেকর্ড অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাহাড়ি ঢলের পানি ঘুমধুম সীমান্তখাল দিয়ে আসার ফলে ইউনিয়নের ১ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী মধ্যম পাড়া, কেনার পাড়া, বাজার পাড়া, হিন্দুপাড়া, পশ্চিমকূল, ক্যাম্প পাড়ার বাড়িঘর ও কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে নাইক্ষ্যছড়ি খালের উপর নির্মিত বেইলি ব্রিজ। এতে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী, দোছড়ি ইউনিয়নসহ রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ মানুষ। পানির স্রোতে ভেসে গেছে ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী। তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে খবর।
এছাড়াও বান্দরবানের আলীকদম, লামা উপজেলার বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল এলাকাগুলো পাহাড় ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। লামা বাজার, নয়া পাড়া, সাবেক বিল ছড়ি, আলীকদমে কাকরা ঝিড়ি, চৈক্ষ্যং এলাকা,রাফারি বাজার প্লাবিত হয়েছে। ফলে মানুষ পানিবন্দি হওয়াতে জনজীবন হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি সংকটসহ প্রয়োজনীয় খাবার ব্যবস্থা। বান্দরবান-থানচি সড়কের ৪৮ কিলোমিটার এলাকায় ভারী বর্ষণের পাহাড় ধ্বসে পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পাহাড়ি ঢলের পানি বেড়ে যাওয়াই লামা- আলীকদম সড়ক ও থানচি বাগান পাড়াতে ব্রিজ ডুবে যোগাযোগের পথ বিচ্ছিন হয়েছে।
টানা তিনদিন ভারী বর্ষণের বান্দরবানের সাঙ্গু নদী, মাতামহুরীসহ ছোট-বড় খালে পানি বিপদসীমা পাড় গেছে। কোথাও কোথাও নদীর পানিতে ঘর-বাড়ি ডুবে গেছে।
কক্সবাজারের রামুতে কয়েকদিনের টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়িতে বানের পানিতে ডুবে ইশমাম নামের ৭ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কাউয়ারখোপ ইউনিয়ে পাহাড় ধ্বসে একই পরিবারের ৩ জন আহত হয়েছে। এরমধ্যে গুরুতর আহত ৭ বছর বয়সী শিশু তাসফিয়াকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধ্বসে শতাধিক বসত বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিভিন্নস্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এছাড়াও চকরিয়ায় টানা ভারী বর্ষণে মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে পাহাড়ি ঢলে ও বৃষ্টির পানির জলবদ্ধতার গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় শতাধিক পরিবার। মাতামুহুরী নদীর পানি হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
-পার্বত্য সময়

