চট্টগ্রামের এস আলম সুগার রিফাইন্ড মিলে আগুনে পোড়া গুদাম থেকে গলে যাওয়া অপরিশোধিত চিনি গিয়ে পড়ছে পাশের কর্ণফুলী নদীতে। এতে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। ছোট জলজ প্রাণীর জন্য এটা হুমকি বয়ে আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সোমবার (৪ মার্চ) বিকেল চারটার কিছু আগে কর্ণফুলী থানা এলাকার ইছানগরে অবস্থিত এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানার গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়। মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। তবে মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
আগুনে গুদামে থাকা অপরিশোধিত চিনি পুড়ছে। গুদামটির ধারণক্ষমতা ৬০ হাজার টন। গুদামটি পুরোটা অপরিশোধিত চিনিতে ভর্তি ছিল বলে দাবি করেছে এস আলম কর্তৃপক্ষ। এ রকম আরও চারটি গুদাম রয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতার কারণে আগুন সেগুলোতে ছড়াতে পারেনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১ নম্বর গুদামটির পোড়া চিনির গলিত পানি দুটি নালা হয়ে সরাসরি গিয়ে পড়ছে কর্ণফুলী নদীতে। এলাকাজুড়ে দুর্গন্ধও ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার মাটি ও নদী দূষিত হওয়ার আশঙ্কা পরিবেশ অধিদপ্তরের। অধিদপ্তরের পরিচালক হিল্লোল বিশ্বাস বলেন, অগ্নিকাণ্ডে গলিত চিনি গিয়ে নদীতে পড়ছে। এতে নদী এবং সার্বিক পরিবেশের কী অবস্থা, তা দেখতে একটা দল পাঠানো হয়েছে।
তবে এস আলম গ্রুপের কর্মকর্তারা বলছেন, অপরিশোধিত চিনির বর্জ্যে পরিবেশের ‘কোনো ক্ষতি হবে না’।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এস আলম গ্রুপের জিএম (কর্মাশিয়াল) মো. আকতার হাসান বলেন, "এটা র সুগার। এখানে ক্ষতি হয় তেমন কোনো কেমিকেল নেই। পরিবেশের কোথাও ক্ষতি হবে না। পোড়া র সুগার আমরা ব্র্র্র্যাকেট করে ফেলছি। ড্রেন থেকে ডাম্পিং স্টেশনে যাচ্ছে। নদীতে যাচ্ছে না।"
ঘটনাস্থানে থাকা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এক শ্রমিকের সাথে কথা হলে তিনি জানান গত ১২ বছর ধরে এ কারখানায় কাজ করে আসছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই শ্রমিক বলেন, "আগুন লাগার পর যে কালো পানিটা বের হচ্ছে, সেটা এখানে নদীতে ছাড়া হচ্ছে। অন্য সময়ও চিনি তৈরির পর যে ময়লা অবশিষ্ট থাকে, সেগুলো এ নালা দিয়ে নদীতে ফেলা হয়। নালাটা করা হইছে ময়লা নদীতে ফেলার জন্য।"
চট্টগ্রামের নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যাবে। সমুদ্রের পানিতে কার্বনের পরিমাণ বেড়ে যাবে। এসব কারণে নদীর পানিতে ইকোসিস্টেমে এর প্রভাব পড়বে। এর ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়তে পারে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (কমার্শিয়াল) আকতার হোসেন বলেন, দু-এক দিনের মধ্যে পুরোদমে উৎপাদনে ফিরবে কারখানাটি। একটি গুদামে আগুন লাগলেও আরও চারটি গুদাম আছে। তাই চিনির বাজারে এর প্রভাব পড়বে না।
আগুন না নিভলেও অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করে দিয়েছে তদন্ত কমিটি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্যরা গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
-পার্বত্য সময়

