বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. মাহতাব উদ্দিন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম, প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি নিয়ে অনিয়ম, নারী প্রশিক্ষককে হয়রানি, চাকরিচ্যুতির হুমকি এবং সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষক রোকেয়া রহমান।
জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর দেওয়া আবেদনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের বিবরণ তুলে ধরে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে রোকেয়া রহমান জানান, তিনি প্রায় নয় বছর ধরে টিটিসিতে হাউজকিপিং উইথ ক্যাটারিং ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সের প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তার দাবি, অধ্যক্ষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এক নারী প্রশিক্ষণার্থীকে কেন্দ্র করে ছাত্রী হোস্টেলের পাশে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ ও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর ওই প্রশিক্ষণার্থীর ভর্তি বাতিল না করে পুনরায় ভর্তির বিষয়ে তাকে চাপ দেওয়া হয়। এতে আপত্তি জানালে অধ্যক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তকে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া ও চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া আইএলও প্রগ্রেস প্রকল্পের আওতায় হাউজকিপিং লেভেল-২ কোর্সের জন্য কেনা মালামাল যথাযথভাবে বুঝে না পেয়েও বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন রোকেয়া রহমান। তার দাবি, এতে আপত্তি জানানোর পর থেকে তাঁকে আরও বেশি হয়রানি করা হচ্ছে।
লিখিত আবেদনে ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেলে ভর্তি কার্যক্রমে অনিয়ম, হোস্টেলের ভাড়া সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া, প্রশিক্ষণের সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং অধ্যক্ষের নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
রোকেয়া রহমান আরও অভিযোগ করেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ তাকে রাতের ফোনে পরদিন সকাল ৭টায় অফিসে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন কাজ করার নির্দেশ দেন। পরে প্রশিক্ষকদের সামনে অপমান, বদলি ও চাকরি থেকে অব্যাহতির হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এইপি সফটওয়্যারে প্রশিক্ষণার্থীর ভর্তি নিশ্চিত করতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিজের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশিক্ষক রোকেয়া রহমান বলেন, ভুয়া বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর না করায় আমার ওপরে ক্ষিপ্ত হন অধ্যক্ষ। ইতোমধ্যে আমি মন্ত্রণালয়ের লিখিত আবেদন করেছি। আমার অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ উদ্বোধন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. মাহতাব উদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, প্রশিক্ষক রোকেয়া রহমানের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের দেওয়া একটা অভিযোগ ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে রাঙামাটি বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে মন্ত্রণালয় হতে একজন উপপরিচালক বান্দরবান টিটিসিতে অবস্থান করছেন।
তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা ও বানোয়াট।


