খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মধুমঙ্গলপাড়ায় গুলিতে নিহত তিন তরুণের মধ্যে দুজনের মরদেহ এখনো গ্রহণ করতে আসেননি তাদের স্বজনরা। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় নিহতদের স্বজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিপল বাপ্পি চাকমা জানান, নিহত তিনজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতরা হলেন পদ্ম চাকমা (১৮), ধনা চাকমা (১৮) ও রিয়েল চাকমা (১৮)। গত সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়ায় তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, নিহতদের মধ্যে একজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে অপর দুজনের কোনো স্বজন এখনো মরদেহ নিতে আসেননি। তাঁদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। স্বজনরা এলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে পুলিশ তা গ্রহণ করবে। অন্যথায় প্রয়োজন হলে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করবে। দীর্ঘ সময়েও যদি কোনো স্বজন মরদেহ গ্রহণ না করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী বেওয়ারিশ হিসেবে যথাযথ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দাফন বা সৎকারের ব্যবস্থা করা হবে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, লোগাং এলাকা থেকে পানছড়ি বাজারের দিকে অটোরিকশায় পাঁচ যুবক যাচ্ছিলেন। পথে মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় অস্ত্রধারী কয়েকজন অটোরিকশা থামিয়ে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করে এবং অপর দুজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মধ্যে পদ্ম চাকমা ও ধনা চাকমার বাড়ি রাঙামাটি জেলায়, আর রিয়েল চাকমার বাড়ি পানছড়ি উপজেলায়। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মরদেহ ছাড়াও দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি, ১৪টি ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং চারটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
এদিকে, ঘটনার পর ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) দাবি করেছে, দল ছেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে জেএসএস (সন্তু গ্রুপ) তাদের পাঁচ কর্মীর ওপর হামলা চালায়। এতে তিনজন নিহত এবং দুজন অপহৃত হন বলে সংগঠনটির দাবি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জেএসএসের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


