রাঙামাটির লংগদু উপজেলার পাকুয়াখালীর গহিন অরণ্যে নিহত ৩৫ কাঠুরিয়ার স্বজনদের অপেক্ষার যেন এখনো শেষ হয়নি। ১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পাকুয়াখালীর গভীর জঙ্গলে ৩৫ জন বাঙালি কাঠুরিয়া হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে বিভিন্ন সময়ের সংবাদ প্রতিবেদন ও স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে। এ ঘটনাই পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি জনগোষ্ঠীর কাছে ‘পাকুয়াখালী ট্র্যাজেডি’ নামে পরিচিত। আজ সেই ঘটনার ৩০ বছর পূর্ণ হলো।

এ হত্যার অভিযোগ ওঠে তৎকালীন সশস্ত্র সংগঠন শান্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর একটি বৈঠকের কথা বলে কাঠুরিয়াদের পাকুয়াখালীর গভীর অরণ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং ৩৫ জন নিহত হন বলে স্থানীয় ও বিভিন্ন সংবাদসূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটির এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)-এর শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। খুনে অভিযুক্ত শান্তি বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন সন্তু লারমা। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংঘাত চলেছে। ওই সংঘাতের সময়ে বেসামরিক জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন পক্ষের ওপর হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার বহু অভিযোগ ওঠে। পাকুয়াখালী হত্যাকাণ্ডও সেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।

ঘটনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় কয়েক দিন পর। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। বাকি কয়েকজনের মরদেহ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো লংগদু এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোহাম্মদ ইউনুছ মিয়া নামের একজন কাঠুরিয়া ওই হামলা থেকে জীবিত ফিরে আসতে সক্ষম হন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে মরদেহ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি দেখতে তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী লংগদু সফর করেন এবং নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে তদন্তের ফলাফল কী ছিল, দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং নিহতদের পরিবারকে কী ধরনের রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছিল-এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর আজও জনপরিসরে স্পষ্ট নয়।

প্রতি বছর ৯ সেপ্টেম্বর পাকুয়াখালী ট্র্যাজেডির স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। নিহতদের স্মরণে শোকসভা, গণকবর জিয়ারত, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্বজন ও স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে আসছেন।