সাজেকের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় বৈঠক চলছে। সর্বশেষ বৈঠকে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। বাকি একটি দাবির বিষয়েও শিগগির সমঝোতা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক সড়কে অচলাবস্থা নিরসনে দুই সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও কাটেনি সংকট। আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। বাকি একটি দাবির বিষয়েও শিগগির সমঝোতা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। তবে সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অবরোধকারীরা। একই সঙ্গে পর্যটকদের সাজেক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অনির্দিষ্টকালের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। অন্যদিকে, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া জানিয়েছেন, অবরোধকারীদের পাঁচ দফা দাবির চারটি পূরণে সরকার ইতিবাচক। বাকি দাবি নিয়েও আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি।

সোমবার বিকেলে সাজেক সড়কের উজোবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অবরোধকারীদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও মূল দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না মেলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমাধান আসেনি। ফলে টানা পাঁচ দিন ধরে সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটন ব্যবসা, পরিবহন খাত ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায় অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া, রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির জেলা প্রশাসক, দুই জেলার পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার নেতৃত্বে অবরোধকারীদের একটি প্রতিনিধিদলও বৈঠকে অংশ নেয়।

বৈঠকের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সাজেক সড়কের উজোবাজার এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে সেখানে অবরোধকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

অবরোধকারীদের প্রধান দাবি, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এ দাবিকে কেন্দ্র করেই সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলছে। তবে বৈঠকের পরও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধান না আসায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে চারটি দাবি পূরণে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানানো এবং বাকি দাবি নিয়ে সমঝোতার আশাবাদ পরিস্থিতি নিরসনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে অবরোধকারীরা অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা না দেওয়ায় সাজেকের পর্যটন ও পরিবহন খাতে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

সাজেক দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং স্থানীয়ভাবে জীবিকা নির্বাহকারী মানুষের ওপরও চাপ বাড়ছে। ফলে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংকট নিরসন ও স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।