খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার চেঙ্গী নদীর বিজিতলা ঘাটে বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্ভোগ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে নিজেদের উদ্যোগে কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন এলাকাবাসী। দুই ইউনিয়নের সংযোগস্থলে স্বেচ্ছাশ্রম ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে নির্মিত এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছেন কয়েকশ মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত অস্থায়ী সেতুটি টিকবে মাত্র ছয় থেকে সাত মাস। বর্ষা এলেই নদীর পানিতে ভেসে যাবে এটি। ফলে প্রতিবছর নতুন করে সেতু নির্মাণের বিড়ম্বনা এড়াতে সেখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ১ নম্বর খাগড়াছড়ি ইউনিয়ন ও ২ নম্বর কমলছড়ি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে বিজিতলা ঘাটের অবস্থান। স্থানীয়দের কাছে ঘাটটি দীর্ঘদিনের পুরোনো যাতায়াতপথ। কিন্তু চেঙ্গী নদীর ওপর সেতু না থাকায় বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে নৌকায় নদী পারাপার সম্ভব হলেও শুকনো মৌসুমে নদীতে পানি কমে যাওয়ায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন হাঁটুপানি কিংবা নদীর বালুচর পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে কাপড় ভিজে যায়, খুলতে হয় জুতা-স্যান্ডেল। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্করা। প্রতিদিন বিদ্যালয়, বাজার ও প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করতে গিয়ে এমন দুর্ভোগ তাদের নিত্যসঙ্গী।

এই পরিস্থিতি থেকে কিছুটা মুক্তি দিতে বিজিতলা ও বেতছড়ি মারমা পাড়ার বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে কাঠের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রম এবং প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে সেতুটি। গত দুই-তিন বছর ধরে সেতু নির্মাণের কাঠের সম্পূর্ণ খরচ বহন করে আসছেন বেতছড়ি মারমা পাড়ার বাসিন্দা রাম্রাচাই মারমা। তবে অস্থায়ী এই সেতুর স্থায়িত্ব মাত্র ছয় থেকে সাত মাস। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির স্রোতে সেতুটি ভেসে যায়। এরপর শুকনো মৌসুমে আবারও নতুন করে সেতু নির্মাণ করতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা চিককোলো চাকমা, শরৎ কুমার চাকমা, কিরন চাকমা ও হ্লাপ্রু মারমা জানান, বিজিতলা ঘাট দিয়ে বেতছড়ি, ইটছড়ি ও গামাড়ীঢালাসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। সেতু না থাকায় বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নিজেদের উদ্যোগে কাঠের সেতু নির্মাণের ফলে আপাতত চলাচলে স্বস্তি মিলেছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। তাই জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।

ব্যক্তিগত অর্থায়নে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া রাম্রাচাই মারমা বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা চিন্তা করেই নিজ অর্থায়নে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কাঠের সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। এতে মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছেন। কিন্তু প্রতিবছর এভাবে অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তাই সরকারের কাছে দাবি, এখানে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক।

১ নম্বর খাগড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান দত্ত ত্রিপুরাও বিজিতলা ঘাটে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ চলাচল করেন। দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবে এখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণ জরুরি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) খাগড়াছড়ির নির্বাহী প্রকৌশলী মোয়া আনোয়ার রহমান জানান, বিজিতলা ঘাটে সেতু নির্মাণের বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। এর আগে এলাকাটি পরিদর্শন করে সেতু নির্মাণের একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রাক্কলন তৈরি করে দ্রুত দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত বিজিতলা ঘাটে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে। এতে শুধু দুই ইউনিয়নের যোগাযোগ সহজ হবে না, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগও লাঘব হবে।