রাঙামাটির পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করতে কাপ্তাই হ্রদের উপর তৎকালীন সময়ে নির্মিত রাঙামাটির সিম্বল খ্যাত ঝুলন্ত সেতুটি অপসারণ করে একই স্থানে নতুন করে ‘ত্রিমুখী ঝুলন্ত সেতু’ এবং তিন পাহাড়ে কেবলকার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাঙমাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পাহাড় ও  হ্রদে পর্যটন সুবিধা একসঙ্গে উপভোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রাঙামাটির পরিচয়ের সঙ্গে মিশে আছে কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড় আর ঝুলন্ত সেতু। জেলা শহরের তবলছড়ি এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের উপর নির্মিত ঝুলন্ত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। রাঙামাটির প্রাকৃতিক ও ঝুলন্ত সেতুটির সৌন্দর্য অবলোকন করতে প্রতি বছর হাজারো পর্যটকের সমাগম ঘটে পার্বত্যাঞ্চলটিতে।

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে সেতুটির নিচের অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। যে কারণে বছরের বেশিরভাগ সময়ে সেতুটি উপর পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক বছর ধরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সেতুটি আরও উঁচু করার দাবি জানিয়েছে এ অঞ্চলে আগত পর্যটক এবং সংশ্লিষ্ট পর্যটন ব্যবসায়ীরা। এ সমস্যার সমাধান করতে বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে  রাঙামাটি পার্বত্য জেলা জেলা পরিষদ।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু বলেন, এ বিষয়ে পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সম্ভাব্য নকশা, নির্মাণ পদ্ধতি, ব্যয় ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। তবে চূড়ান্ত নকশা, ব্যয় ও নির্মাণের সময়সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, একই সঙ্গে রাঙামাটির তিন উপজেলার তিনটি পাহাড়ে কেবলকার নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জেলা পরিষদ। এর মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলার ফুরোমন পাহাড়, বরকল উপজেলার সুবলং পাহাড় এবং কাপ্তাই উপজেলার রাম-সীতা পাহাড় রয়েছে। এসব এলাকায় কেবলকার চালু হলে পাহাড়ের ওপর থেকে হ্রদ ও আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও পর্যটন বিষয়ক গবেষক আনোয়ার আল হক বলেন, সেই আশির দশকে তৎকালীন সরকার রাঙামাটিকে পর্যটন শহর ঘোষণা দিয়েছিলো। সময় অনেক পার হয়েছে। এখনো রাঙামাটিতে পুরোপুরি পর্যটন শহর গড়ে উঠেনি। জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান  পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এমন মহতি পরিকল্পনা রাঙামাটির পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধশালী করবে।

সচেতন মহল বলছেন, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে রাঙামাটির পর্যটন অবকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশের ভারসাম্য, পাহাড়ের নিরাপত্তা, হ্রদের স্বাভাবিক প্রবাহ, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত সুবিধাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

কারণ রাঙামাটির পর্যটনের মূল আকর্ষণই পাহাড়, হ্রদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। তাই উন্নয়নের সঙ্গে প্রকৃতি রক্ষার সমন্বয় থাকলে কেবলকার ও ত্রিমুখী ঝুলন্ত সেতুর পরিকল্পনা রাঙামাটির পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।

উল্লেখ্য, রাঙামাটি জেলা শহরের তবলছড়ি এলাকায় পর্যটন করপোরেশন ১৯৮৬ সালে নয়নাভিরাম ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণ করেছিলো। দুই পাহাড়ের মাঝখানে দুটি পিলারের ভর করে দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন এ সেতুটি দেখতে জলপথে ও স্থলপথে যে কোনো মাধ্যমে সহজে যাওয়া যায়। বর্তমানে সেতুটি ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিতি লাভ করেছে।