ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার সেনাবাহিনী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক কার্যক্রমে সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথ সামরিক প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ও কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি ওয়ারফেয়ার অপারেশনকে কেন্দ্র করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কার্যক্রম মালয়েশিয়া-ফিলিপাইন আর্মি ট্রেনিং অ্যাক্টিভিটি ল্যান্ড মালফি ২৪/২০২৬-এর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১২ থেকে ১৩ মে দাভাও দে ওরোর মাওয়াবে অবস্থিত ক্যাম্প জেনারেল ম্যানুয়েল টি. ইয়ান সিনিয়রে এ আয়োজন করা হয়।

ফিলিপাইনের ১০ম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন জানায়, ল্যান্ড মালফি একটি বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এটি পর্যায়ক্রমে ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়া আয়োজন করে থাকে।

মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ৬ষ্ঠ রয়্যাল মালয় রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওয়াজির সিয়াফিক বিন নোদিন। প্রতিনিধি দলটি প্রশিক্ষণ সুবিধা, আবাসন ব্যবস্থা এবং সম্মেলনস্থল পরিদর্শন করে মহড়ার নির্বিঘ্ন আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা চালায়।

দুই দেশের সেনাবাহিনী যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সমন্বয় সভা ও পরিকল্পনা বৈঠকও আয়োজন করে।

১০ম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলভিন লুজন বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং পেশাগত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সামরিক বাহিনীগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম দুই সেনাবাহিনীকে কার্যকর সমন্বয় কাঠামো গড়ে তুলতে এবং ল্যান্ড মালফি ২৪/২০২৬ সফলভাবে পরিচালনায় সহায়তা করে।’

লুজন আরও বলেন, এই সহযোগিতা পারস্পরিক সমন্বয় সক্ষমতা, আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে, যা অভিন্ন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা, অপারেশনাল দক্ষতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে মিত্রবাহিনীর মধ্যে স্থায়ী প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে ফিলিপাইন সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য মূল মহড়ায় বিশেষজ্ঞ মতবিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ, টেবিল-টপ অনুশীলন, স্টাফ ড্রিল এবং কমান্ড পোস্ট এক্সারসাইজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

যৌথ অস্ত্র পরিচালনা ও যুদ্ধ পরিকল্পনা বিষয়ে পরিচালিত এসব কার্যক্রম অংশগ্রহণকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে অপারেশনাল সমন্বয়, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং মিশন পরিচালনার সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।