মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পোননাজুন ও সিত্তে টাউনশিপের সীমান্তবর্তী এলাকায় আরাকান আর্মি ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে পোননাজুন টাউনশিপের দক্ষিণ প্রান্তে কালাদান নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত রেই ইয়ক পিয়িন, আউং মে কনে ও খামাউং তাওসহ কয়েকটি গ্রাম পুনর্দখলের দাবি করেছে আরাকান আর্মি এসব এলাকায় এর আগে সামরিক বাহিনী ঘাঁটি স্থাপন করেছিল বলে জানা গেছে। খবর মিয়ানমার নাও’র।

বর্তমানে দুই টাউনশিপের সীমান্তবর্তী মিন চাউং সেতুর কাছে এবং সিত্তে টাউনশিপের গ্যাংগাও কিয়ুন গ্রামের আশপাশে কিয়ামা থাউক, তাও কানসহ কয়েকটি এলাকায় তীব্র লড়াই চলছে। একই সঙ্গে শুয়ে মিন গ্যান ঘাটসংলগ্ন এলাকাতেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকা থেকে প্রায় আড়াই মাইল দক্ষিণে সামরিক বাহিনীর সিত্তে আঞ্চলিক কমান্ড অবস্থিত।

পোননাজুনে প্রবেশের অন্যতম পথ মিন চাউং সেতুর দিক থেকে সামরিক বাহিনীর চালানো আক্রমণ প্রতিহত করার দাবি করেছে আরাকান আর্মি। সংগঠনটির দাবি, অভিযানে সামরিক বাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে আরাকান আর্মি।

মিয়ানমার নাও জানায়, এলাকাটিতে সংঘাতের তীব্রতা বেড়েছে। রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক বাহিনীর ভারী কামানের গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

অপারেশন ১০২৭-এর পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরবর্তী সময়ে তারা বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।

এর আগে, পাল্টা অভিযানে সামরিক বাহিনী ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। এসব অভিযানে ক্ষয়ক্ষতির পর সামরিক বাহিনী তাদের ড্রোন সক্ষমতা আরও উন্নত করেছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে।

মান্দালয় অঞ্চলে স্থল অভিযান শুরুর আগে সামরিক বাহিনী বিপুলসংখ্যক উন্নত ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের অবস্থানে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল বলে ধারণা করা হয়। পোননাজুনেও সামরিক বাহিনী একই ধরনের ড্রোননির্ভর কৌশল ব্যবহার করছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে।