পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলাজুড়ে গত ১ বছর ৮ মাস ধরে ধারাবাহিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে জনসংহতি সমিতি (সন্তু লারমা গ্রুপ) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (প্রসীত গ্রুপ)-এর মধ্যে।

অক্টোবর ২০২৪ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে আধিপত্য বিস্তার, সাংগঠনিক বিরোধ এবং পারস্পরিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পার্বত্য সময়ের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়কালে মোট ১১৩টি সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় ব্যাপক গুলিবিনিময়ের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মোট গুলিবিনিময়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৮ হাজার ২৭৯ রাউন্ড।

এই সময়ের ঘটনায় হতাহতের তথ্য অনুযায়ী অন্তত ৩২ জন আহত এবং ৩৫ জন নিহত হয়েছে। সংঘর্ষগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন সময় ও এলাকায় ঘটায় পরিস্থিতি পুরো সময়জুড়েই অস্থিতিশীল ছিল।

২০২৫ সাল ছিল এই সংঘর্ষের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস বছর। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে সংঘর্ষের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। জুলাই মাসে পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হয়ে বান্দরবানসহ পার্বত্য তিন জেলাতেই প্রভাব পড়ে।

২০২৬ সালের শুরুতেও সংঘর্ষ পুরোপুরি থেমে যায়নি। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা অব্যাহত থাকে, যদিও কিছু মাসে তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল।

সার্বিকভাবে বিশ্লেষণে দেখা যায়, দীর্ঘ এই সময়জুড়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বারবার অস্থির হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগজনক পরিবেশ তৈরি হয়।