খাগড়াছড়ির পাহাড়ি এলাকায় আমের মৌসুম শুরু হলেই বদলে যায় দৈনন্দিন চিত্র। ভোরের আগেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন অনেক নারী। পাহাড়ি পথ ধরে পৌঁছে যান আমবাগানে। হাতে বাঁশের ঝুড়ি, কাঁধে ক্রেট—দিনভর চলতে থাকে গাছ থেকে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতের প্রস্তুতি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সারা বছর গৃহস্থালির কাজেই সীমাবদ্ধ থাকলেও এই সময়টায় অনেক নারী প্রথমবারের মতো আয়-উপার্জনের কাজে যুক্ত হন। এতে পরিবারে কিছুটা হলেও আর্থিক স্বস্তি আসে।
পানছড়ি উপজেলার দুদুকছড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের ঢালজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমবাগানগুলোতে চলছে মৌসুমি কাজের ব্যস্ততা। কোথাও গাছে উঠে আম পাড়া হচ্ছে, কোথাও আবার ঝুড়ি ভরা হচ্ছে, আর কোথাও সেগুলো বাছাইয়ের কাজ চলছে।
একজন নারী শ্রমিক জানান, প্রতিদিন বাগানে কাজ করে গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। তার ভাষায়, ‘সারা বছর ঘরে থাকি, কিন্তু এই সময়টায় নিজের হাতে কিছু আয় করতে পারি।’
আরেকজন শ্রমিক জানান, কাজটি কষ্টসাধ্য হলেও পরিবারের জন্য অবদান রাখতে পারা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়ভাবে নারীরা সাধারণত ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে কাজ করেন। ১০–১২ জনের দল বাগানমালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে নির্দিষ্ট পরিমাণ আম সংগ্রহের দায়িত্ব নেয়।
গাছবান এলাকার এক বাসিন্দা জানান, এই পদ্ধতিতে কাজ ভাগ হয়ে যায় এবং দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হয়। তবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ চলায় শারীরিক চাপও থাকে।
বাগানমালিকদের মতে, আগে আম সংগ্রহের সময় শ্রমিক পাওয়া কঠিন ছিল। এখন স্থানীয় নারীদের অংশগ্রহণে সেই সমস্যা অনেকটাই কমে গেছে।
একজন বাগানমালিক জানান, নারীরা যত্ন নিয়ে কাজ করায় আম নষ্ট হওয়ার হারও কমে। ফলে উৎপাদনের মানও ভালো থাকে।
আরেকজন চাষি বলেন, সময়মতো আম বাজারে পাঠানো এখন আগের চেয়ে সহজ হয়েছে।
খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমের আবাদ বেড়েছে। এর সঙ্গে বাড়ছে মৌসুমি কর্মসংস্থানও। বিশেষ করে পাহাড়ি নারীদের জন্য এটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের সুযোগ হয়ে উঠছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই ধরনের মৌসুমি কাজ নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াচ্ছে এবং পরিবার পর্যায়ে আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
আম সংগ্রহ এখন শুধু একটি মৌসুমি কাজ নয়—অনেক নারীর জন্য এটি ঘরের বাইরে এসে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ। পাহাড়ি জীবনের সীমিত কর্মসংস্থানের মধ্যে এই কাজ নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে।


