বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং গঠনমূলক কর্মসম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

শনিবার (১৩ জুন) ঢাকায় অনুষ্ঠিত রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি ২০২৬ শীর্ষক সম্মেলনের এক প্যানেল আলোচনায় তিনি এ কথা জানান।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা চাই, তবে সেটি অবশ্যই পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হতে হবে। ভারতের সঙ্গে আমাদের একটি ভালো কর্মসম্পর্ক থাকা উচিত।’

তিনি জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখা কূটনীতির অন্যতম মৌলিক নীতি এবং সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর ও সংলাপ অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করে হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান সরকার গত ১৫ বছরে গড়ে ওঠা একটি “ঘাটতিপূর্ণ” সম্পর্ক উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সম্পর্ক ছিল একমুখী এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করেনি।

তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সম্প্রতি ড. খলিলুর রহমান–এর ভারত সফরের সময় দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব এবং সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ দেখা গেছে।

আলোচনায় তিনি ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–এর প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তাঁর অভিযোগ, দেশত্যাগের পর শেখ হাসিনা বিদেশে অবস্থান করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় এ বাস্তবতাটি উপলব্ধি করতে হবে যে, আজকের বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার আর কোনো অস্তিত্ব নেই।’

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং মাহদি আমিন। অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন আসাদ আলম সিয়াম।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আয়োজিত এ সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সম্মেলনে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতি, অর্থায়ন, বিনিয়োগ সংগ্রহ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীল শিল্প এবং ক্রীড়া খাতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক কূটনীতি শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করাই ছিল সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।