চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর ও এর আশপাশের এলাকাকে সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ওই এলাকায় একটি নতুন কারাগার স্থাপন করবে সরকার। তবে এখান থেকে এখনই কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আলীনগর-জঙ্গল সলিমপুর এলাকা আমরা পরিকল্পিত ও যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই এলাকাকে পুরোপুরি সন্ত্রাসমুক্ত করব। পাশাপাশি বেতুয়া ও চা-বাগান এলাকায়ও অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই চারটি অপরাধকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে এবং এগুলো নির্মূলের চেষ্টা চালানো হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৮৬৭ সালের জুয়া আইনের মাধ্যমে আধুনিক অনলাইন ও অফলাইন জুয়া কিংবা বেটিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের বিষয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকসংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে হাজার হাজার মাদক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনের কিছু সুবিধা ও ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনেক কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং পরবর্তীতে তারা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীতে পরিণত হচ্ছে। এ কারণে কিশোর অপরাধ মোকাবিলাতেও আইনি সংস্কার আনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনি সংস্কার, পরিকল্পিত অভিযান এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজিমুক্ত করার চেষ্টা করব। এর মাধ্যমেই যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।’
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর হলো সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্তর্গত একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। পাহাড় কাটা ও দখল করে অবৈধ বসতি গড়ে তোলার কারণে এটি বহুল আলোচিত। ভৌগোলিক অবস্থান ও দুর্গমতার কারণে এলাকাটিকে অনেকে ‘দেশের ভেতর আরেক দেশ’ বা অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে আখ্যায়িত করেন।


