গভীর সমুদ্রবন্দরসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফর করছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার মাতারবাড়ির হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।
দিনব্যাপী সফরে কক্সবাজারের পাশাপাশি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার।
সফরসূচি অনুযায়ী, ফটিকছড়িতে পৌঁছে বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মুহাম্মদ হেলাল বলেন, "প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর মধ্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে চট্টগ্রাম প্রস্তুত রয়েছে।"
ফটিকছড়ির কর্মসূচি শেষে হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে মাদ্রাসা পরিদর্শন ও মোনাজাতে অংশ নেবেন তিনি। পরে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।
সাত ভেন্যুতে প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় সাতটি ভেন্যু প্রস্তুত করা হয়েছে। ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম নগরীর কর্মসূচির স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নির্ধারিত ভেন্যু, হেলিপ্যাড ও সড়কপথের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সফরে বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নির্মিত ১০০টি ঘর হস্তান্তর, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।
নিরাপত্তায় আড়াই হাজার পুলিশ
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সফরের কর্মসূচির স্থান, হেলিপ্যাড, চলাচলের সড়ক, ভবনের ছাদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচির প্রতিটি কর্মস্থল, হেলিপ্যাড, সড়কপথ, ভবনের ছাদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় আড়াই হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।"
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠান
মহেশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর তিনি ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা দেবেন।
বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভা
সফরের শেষ দিকে চট্টগ্রাম নগরীতে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে নগরীর র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলের অডিটোরিয়ামে এ সভা হওয়ার কথা রয়েছে।
সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নির্ধারিত নেতারা অংশ নেবেন।
সফর শেষে রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।


