দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও চীন। এ সময় মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বেইজিংয়ের অব্যাহত কূটনৈতিক সমর্থন চেয়েছে ঢাকা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সম্মানে আয়োজিত এক প্রাতরাশ বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের আয়োজন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৈঠকে ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়’ কাঠামোর আওতায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমি মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের অব্যাহত কূটনৈতিক সহযোগিতা কামনা করেন।
এছাড়া রাজনৈতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ, দলীয় পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদার, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও গভীর করার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে উভয় পক্ষ চলতি বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ফলাফল নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করে।
বৈঠকে লিউ হাইশিং চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিসিপিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রাজনৈতিক সংলাপ, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চীনের আগ্রহের কথাও জানান লিউ।
আলোচনাকালে বাংলাদেশে চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও নিজের বাবা লিউ শুচিংয়ের অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে তার বাবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে উল্লেখ করেন লিউ।
রাজনৈতিক যোগাযোগ গভীর করা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিন দিনের সফরে গত ৩ নভেম্বর ঢাকায় আসেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং।


