মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সমর্থন চেয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন হুমায়ুন কবির। দীর্ঘদিনের এ সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিশেষ করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় যুক্তরাজ্যের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

জবাবে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারবিষয়ক ‘পেনহোল্ডার’ হিসেবে যুক্তরাজ্য তার নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকটকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতেও লন্ডন কাজ করে যাবে বলে জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে সারাহ কুক হুমায়ুন কবিরকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে দুই দেশের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে বিদ্যমান শক্তিশালী যোগাযোগের বিষয়টি সন্তোষের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা আরও গভীর করা, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া শিক্ষা, অভিবাসন ও মানুষের চলাচল, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সারাহ কুক বলেন, গভীর জনসম্পৃক্ততা, প্রাণবন্ত অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার ভিত্তিতে যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অংশীদারত্ব ক্রমেই আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

তিনি বলেন, হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সহায়তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়সহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিস্তৃত অগ্রাধিকারগুলো উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে হুমায়ুন কবির ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। এ অংশীদারত্বকে দুই দেশের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুফলে রূপ দেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।