যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও উড়োজাহাজ কিনতে বাংলাদেশ রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

সার্জিও গর বলেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে একটি ‘অভূতপূর্ব চুক্তি’ হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কিনতে ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার’ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা দেশটির আগের অর্ডারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তবে বাংলাদেশ নতুন করে ঠিক কতটি উড়োজাহাজ কিনবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি সার্জিও গর।

এর আগে গত ৩০ জুলাই থেকে তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে আসেন সার্জিও গর। সফরের শেষ দিনে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ঢাকা ছাড়ার আগে এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার এবং অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের ‘অপার সম্ভাবনা’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

২৫টি বোয়িং কেনার পরিকল্পনা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। তখন বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা ১৪টি থেকে বাড়িয়ে ২৫টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও বোয়িংয়ের মধ্যে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এসব উড়োজাহাজের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা। পর্যায়ক্রমে বাকি উড়োজাহাজগুলো ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

সার্জিও গরের সর্বশেষ ঘোষণার ফলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশের উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা আরও বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নতুন চুক্তির আওতায় উড়োজাহাজের সংখ্যা, মডেল ও আর্থিক মূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।