জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট)। বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে অসামান্য অবদান রাখা এই কবি ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ দেশজুড়ে কবির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানো হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনও নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠা নজরুল পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল সাহিত্যজীবনে কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি বিপুল সৃষ্টিকর্ম রেখে গেছেন। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করে। শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর কবিতা ও গান আজও মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয়।
একই সঙ্গে নজরুল ছিলেন প্রেম ও মানবতার কবি। দ্রোহ ও প্রেমের এই যুগল বৈশিষ্ট্য তাঁর সৃষ্টিকে দিয়েছে অনন্য মাত্রা। নিজের কবিতাতেই তিনি লিখেছেন, ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে ১৯৭২ সালের ২৪ মে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয় কাজী নজরুল ইসলামকে। তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয় এবং রাজধানীর ধানমন্ডিতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বসবাসের জন্য একটি বাড়ি দেওয়া হয়।
১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছর ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা আয়োজন
জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দুদিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হবে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
‘আমারে দেবো না ভুলিতে...’ শীর্ষক এ আয়োজনে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা ছাড়াও সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান থাকবে।
এদিকে নজরুল একাডেমি তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবির সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বাদ জোহর কবির সমাধিসংলগ্ন মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে মিলাদ মাহফিল।
আগামীকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় মগবাজারের বেলালাবাদ কলোনিতে নজরুল একাডেমির ‘কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে’ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ২৯ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৫টায় একই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠান।
দ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও প্রেমের বাণী ধারণ করা নজরুলের সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে বাঙালির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক চেতনায় তার অবদান স্মরণ করছে জাতি।


