রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা ও তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বেইজিং সফরকালে চীনের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এই আহ্বান জানায়।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দুপুরে বেইজিং–এর গ্রেট হল অব দ্য পিপল–এ চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান জেং–এর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে বিএনপির প্রতিনিধিদল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং–এর সঙ্গেও বৈঠক করে।
বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্ব পায়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় চীনের গঠনমূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের সক্রিয় সহায়তা কামনা করেন।
দুই পক্ষই পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, নিয়মিত মতবিনিময় এবং দ্বিপক্ষীয় সফর বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিএনপি বাংলাদেশের ‘এক-চীন নীতি’র প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, অবকাঠামো, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং হালকা ও মাঝারি শিল্পে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ খাতে সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
চীনা পক্ষ বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে এবং পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদারের আশ্বাস দেয়। তারা ভবিষ্যতে বহুমাত্রিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে যৌথ অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করে।
২১ সদস্যের এই প্রতিনিধিদলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।


