বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সৈনিক, সাবেক মন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন।
রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৬১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন।
দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন অভিজ্ঞ ও খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন।
রাজনীতিতেও দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।
ব্যক্তিজীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের সহধর্মিণী নূর আখতার ২০২৩ সালে মারা যান। তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্রসন্তান রেখে গেছেন। তাঁর ছেলে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির পঞ্চগড়-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।


