রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর অর্থবহ চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শনিবার রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) আয়োজিত ‘কনফ্লুয়েন্স ২০২৬: অংশীদারিত্ব, প্রশংসা এবং প্রতিশ্রুতির একটি আহ্বান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আগমনের নয় বছর পূর্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি এবং তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনসহ দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে কোনোভাবেই ‘বিস্মৃত সংকট’-এ পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি সংকটটির স্থায়ী সমাধানে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।
ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির এশিয়া অঞ্চলের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক হাসিনা রহমান বলেন, নয় বছর ধরে চলা এই সংকট মোকাবিলায় গতানুগতিক পদ্ধতি যথেষ্ট নয়। মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে আসার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মনোযোগও অন্যদিকে সরে যাচ্ছে। তাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষা ও সংকটের টেকসই সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন করে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা মানবাধিকার কর্মী লাকি করিম বলেন, প্রত্যাবাসন শুরুর আগে মিয়ানমারের রাখাইনে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা জরুরি। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানসম্মত শিক্ষা ও টেকসই জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত দুটি প্যানেল আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তা, দাতা সংস্থা, মানবিক কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাবিদরা রোহিঙ্গা সংকটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক ডিভিশনাল ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের কর্মকর্তা হামাহ হোসেন এবং আইআরসি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ রিয়াসসহ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, জাতিসংঘ সংস্থা, দেশি-বিদেশি এনজিও, শিক্ষাবিদ ও রোহিঙ্গা সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আইআরসির রিজিওনাল অ্যাডভোকেসি স্পেশালিস্ট সাবিরা সুলতানা নুপুর।


