বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি অর্জিত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, এই সংকট তাৎক্ষণিক সমাধানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে বিবেচনা করেই এর টেকসই সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মালয়েশিয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিলেও বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন কেন শুরু করা যাচ্ছে না-এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে আশাব্যঞ্জক কোনো অগ্রগতি হয়নি।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর সময় বিষয়টিকে আরও শক্তভাবে আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ ছিল। সে সময় সারা বিশ্বের মনোযোগ রোহিঙ্গা সংকটের দিকে থাকলেও তৎকালীন সরকার সংকট সমাধানে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার ওপর বেশি জোর দিয়েছিল। তার মতে, এর ফলে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আশাব্যঞ্জক বক্তব্য দেওয়া হলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা।

বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে খুব সিগনিফিক্যান্ট কোনো উন্নতি হয়ে গেছে-এটা বলতে পারছি না। সেটা এখনও হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ায় বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত চাপ বাড়ছে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার রোহিঙ্গা সংকটের কোনো তাৎক্ষণিক বা ‘পপুলিস্ট’ সমাধানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কাজ করতে চায়। সংকটটি দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে বিবেচনা করেই এর টেকসই সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।