রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ১১ সদস্যের ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করেছে সরকার।

সোমবার (১৩ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

কমিটিতে রয়েছেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) প্রধান সমন্বয়ক এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রধান সমন্বয়কের তত্ত্বাবধানে একটি পর্ষদ গঠন করা হবে। ওই পর্ষদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার করণীয় নির্ধারণ করে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য জাতীয় কর্মকৌশল তৈরি করবে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এই কৌশল প্রণয়ন করে কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে হবে।

নতুন এই কমিটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত অগ্রাধিকার নির্ধারণ, আন্তঃসংস্থা সমন্বয়, বাস্তবায়ন তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্ব নির্ধারণে কাজ করবে।

কমিটিকে সহায়তার জন্য পাঁচ কর্মকর্তাকে যুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন), এনএসআইয়ের পরিচালক (সীমান্ত) এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এসএসআইবি) পরিচালক।

এদিকে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউসিআর সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে জাতীয় কৌশল প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ইউসিআর জানিয়েছে, তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে চায়। সংগঠনটির মতে, প্রত্যাবাসন কৌশলে রোহিঙ্গাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।