ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট সীমান্তে এক বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যার পর আরও দুই বাংলাদেশিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে ৬৩/চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল বাংলাদেশি একটি দলের ওপর গুলি চালায়। এতে আসাদুজ্জামান (৩৩) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাকে ভারতের একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আসাদুজ্জামান ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের ওয়াজ উদ্দীনের ছেলে।
এ ঘটনায় মোস্তাকিম ও শ্রী উদা নামে আরও দুই বাংলাদেশিকে বিএসএফ সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। মোস্তাকিম বৈরচুনার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে এবং শ্রী উদা একই উপজেলার ইন্দ্রইল গ্রামের মুনষা নারায়ণের ছেলে।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সীমান্তের প্রায় দেড় কিলোমিটার ভারতের ভেতরে বাংলাদেশি একটি চোরাকারবারি দলের ওপর বিএসএফের চকশিবানন্দ ক্যাম্পের সদস্যরা গুলি চালান। এতে আসাদুল হক নামে একজন আহত হন। পরে তাকে ভারতের রায়গঞ্জের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন বলেন, এ ঘটনায় বিএসএফের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে পতাকা বৈঠকের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে বলে জানিয়েছে বিজিবি।


