মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মাগুরুলি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত তারা মিয়ার (২০) লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে চাতলাপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফ লাশটি বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে তা পরিবারের সদস্যদের কাছে দেওয়া হয়।
নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা আবদুল মালেক ও আজিরুন্নেছা দম্পতির ছেলে।
বিজিবি ও কুলাউড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, লাশ হস্তান্তরের আগে বিকেলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের পক্ষে ত্রিপুরা রাজ্যের ইরানি থানার পরিদর্শক শ্রীকান্ত চক্রবর্তী এবং বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের মাগুরুলি কোম্পানি কমান্ডার এ.সি. রোহিত উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম, বিজিবির আলীনগর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম, কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিলভেস্টার পাঠাং এবং নিহত তারা মিয়ার বড় ভাই রাজু মিয়া।
এদিকে চোরাকারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে তারা মিয়ার চার সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিজিবি। সোমবার দুপুরে তাদের নাম উল্লেখ করে কুলাউড়া থানায় মামলাটি করা হয়। আসামিরা কর্মধা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চলছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত শনিবার গভীর রাতে কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মাগুরুলি সীমান্ত দিয়ে একদল চোরাকারবারি ভারতের প্রায় ৫০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করে। ওই দলে তারা মিয়াও ছিলেন। এ সময় বিএসএফের গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পরে ভারতীয় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে কৈলাসহর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সোমবার পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফ লাশটি বাংলাদেশে হস্তান্তর করে।


