সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মাগুরার শালিখা উপজেলার ৩২ শিক্ষার্থীর একটি উপবৃত্তির তালিকা ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, সেখানে শুধু হিন্দু শিক্ষার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং মুসলিম শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। কোথাও আবার দাবি করা হচ্ছে, মাগুরা-২ আসনের ৩৫ জন উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর তালিকায় কোনো মুসলিম শিক্ষার্থী নেই। তবে উপজেলা প্রশাসন ও ফ্যাক্টচেক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এসব দাবি বিভ্রান্তিকর।
শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকাটি একটি বিশেষ সরকারি কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত উপবৃত্তির অংশ। তিনি বলেন, এ ধরনের বরাদ্দ প্রতি বছরই দেওয়া হয় এবং এটি কোনো সাধারণ শিক্ষাবৃত্তির তালিকা নয়।
ইউএনও বলেন, মাগুরার চারটি উপজেলাতেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির আওতায় এসব শিক্ষার্থী নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। তিনি আরও জানান, কোনো মুসলিম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী থাকলে তারাও একই সুবিধা পেতেন। তবে শালিখা উপজেলায় বর্তমানে মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নেই।
দ্য ডিসেন্ট-এর যাচাইয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রচারিত তালিকাটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তালিকা।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কর্মসূচিটির লক্ষ্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন। এ কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত দরিদ্র ও অসহায় পরিবার এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষাবৃত্তি, বসতঘর, বাইসাইকেল, সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে।
এদিকে, অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা কীভাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হন। এ বিষয়ে ইউএনও তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিচয় ধর্মনির্ভর নয়।ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা হিন্দু, মুসলিম বা অন্য ধর্মাবলম্বী হতে পারেন। তবে শালিখা উপজেলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী না থাকায় তালিকায় তাদের নাম নেই।
২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী, মাগুরা জেলায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা ৮ হাজার ৫৪৮ জন, যা জেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.৮৩ শতাংশ।
ইউএনও আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তালিকাটি ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে ৩২ জন শিক্ষার্থীর নাম দেখা গেলেও প্রকৃত তালিকায় মোট ৬৪ জন উপকারভোগীর নাম রয়েছে। একই পরিবারের একাধিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থী তালিকাভুক্ত থাকতে পারে এবং উপজেলার কোনো যোগ্য উপকারভোগীকে এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি।


