কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ইজলামারী ভুন্দুরচর সীমান্তে টানা ১৭ দিন শূন্যরেখায় অবস্থান করার পর তিন তরুণ হঠাৎ নিখোঁজ হয়েছেন। বুধবার (২ জুলাই) ভোর থেকে তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। তাদের অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রৌমারী সীমান্তের ১০৬৬ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন ওই তিন তরুণ। বুধবার সকাল থেকে তারা নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন জানান, বুধবার (১ জুলাই) সকালে সীমান্তে গিয়ে তিন তরুণকে আর দেখা যায়নি। বিষয়টি ইজলামারী বিজিবি ক্যাম্পকে জানানো হলে তারাও তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

জানা গেছে, গত ১৪ জুন ভোরে রৌমারী সদর ইউনিয়নের ইজলামারী ভুন্দুরচর সীমান্তে কালাপানি-জিঞ্জিরাম নদীর সেতুর নিচ দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ওই তিন তরুণকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। বিএসএফের দাবি ছিল, তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখার কাছাকাছি রেখে চলে যায়। এরপর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক হলেও বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি।

নিখোঁজ তিন তরুণ হলেন-সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দী গ্রামের মো. জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাওতা গ্রামের মো. পারভেজ মিয়া (২১) এবং ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাউছিয়া গ্রামের মো. নাঈম আহমেদ (২২)। তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর আটক হন বলে জানা গেছে। পরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবির বাধায় তারা ১৭ দিন শূন্যরেখায় অবস্থান করেন।

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, শূন্যরেখায় অবস্থানরত তিন তরুণকে বুধবার ভোর থেকে আর দেখা যাচ্ছে না। তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান চলছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন একই উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়েও বিএসএফ আরও ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। স্থানীয়দের বাধা ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মানবিক বিবেচনায় বিল্লাল হোসেন, তার স্ত্রী সুমি আক্তার এবং তাদের দুই সন্তানকে রৌমারী থানার মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই দলের অপর দুই সদস্য সজীব ও হিমেল কয়েক দিন পর ওই এলাকা ছেড়ে চলে যান।