মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরতলিতে আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থান লক্ষ্য করে বুধবার রাতে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে আরাকান আর্মি। দুই পক্ষের সংঘর্ষে একের পর এক বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্ত এলাকা। আতঙ্কে সীমান্তবর্তী অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান।
সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১ জুলাই) রাত রাতে মংডু টাউনশিপে বিমান হামলা শুরু হয়। নাফ নদীর ওপার থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ও আগুনের ঝলকানি স্পষ্ট দেখা যায় বলে জানিয়েছেন টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, রাত সোয়া নয়টার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং থেমে থেমে বিমান হামলা চলতে থাকে। রাত ১১টা পর্যন্ত মংডু এলাকায় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে। এতে নাফ নদীসংলগ্ন শাহপরীর দ্বীপ, জালিয়াপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। তিনি জানান, সীমান্তে বিজিবি ও নাফ নদীতে কোস্টগার্ড টহল জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য মতে, বিস্ফোরণের পর আগুনের ঝলকানি নিয়ে কিছু বস্তু নাফ নদীর দিকে ছিটকে আসতে দেখা গেছে। এগুলো বাংলাদেশের ভেতরে এসে পড়লে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, মংডু টাউনশিপের হাইন্দাপাড়া ঘাঁটি, তিন মাইল এলাকা, সিকদারপাড়া এবং ১ ও ৫ নম্বর বিজিপি ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ ও গোলাবর্ষণের ঘটনায় কয়েকটি গ্রামে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। হতাহতের আশঙ্কা থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য কোনো সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলার তথ্য বিজিবির কাছে রয়েছে। সীমান্ত ও নাফ নদীতে বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর দীর্ঘ প্রায় ১১ মাসের সংঘর্ষের পর রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুচিডং ও রাচিডং টাউনশিপসহ প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে আসে। এসব এলাকার বিপরীতে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা অবস্থিত। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী পুনরায় আরাকান আর্মির অবস্থানে বিমান ও স্থল হামলা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে রাখাইনে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও আরাকান আর্মির সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।


