বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও সংকট সমাধানের লক্ষ্যে একটি বলিষ্ঠ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আরাকান আর্মি কর্তৃক রাখাইন অঞ্চল দখল করার পর বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম হাতে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলে শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে সামরিক, বাণিজ্যিক এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ যখন রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী কৌশল নিয়ে কাজ করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র দৃশ্যমান হচ্ছে:
১. বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিভক্ত করার জন্য বিদেশে অবস্থানরত কিছু প্রবাসী রোহিঙ্গা নেতার মাধ্যমে নতুন নতুন সংগঠন গঠন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা জাতিকে বিভক্ত করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো - বাংলাদেশ যেন আরাকান ইস্যুতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে না পারে।
২. আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্ট প্রকাশ করে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভূমিকাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। অথচ মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র সংগ্রাম চলমান থাকা সত্ত্বেও কেবল রোহিঙ্গা প্রতিরোধ আন্দোলনকেই অপপ্রচারের মাধ্যমে দমন করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে।
৩. বর্তমানে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে সাধারণ শরণার্থীদের উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের যে প্রয়াস চলছে, সেটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। টেকসই প্রত্যাবাসন ও সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের জনগণ, রাজনৈতিক দলসমূহ এবং সরকারের এই বিষয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকা এখন অত্যন্ত জরুরি। কারণ, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ একই সূত্রে গাঁথা।
রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন, নিজ দেশের মাটিতে নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করে ফিরে যাওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রয়োজন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ ও অন্যান্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ নির্মাণ করা।
- - মামুন মজুমদার, গবেষক ও কলামিস্ট


