পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি নির্দিষ্ট মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং পার্বত্য এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য অঞ্চলের একাধিক সশস্ত্র আঞ্চলিক গোষ্ঠী ও তাদের মদতদাতারা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, গুম, খুনসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তবে এসব গোষ্ঠীর সামনে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাই তারা সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার, সাইবার প্রপাগান্ডা ও ঘৃণামূলক প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি এই অপপ্রচারের সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পার্বত্য এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থানকে অকার্যকর করার অপচেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি রাঙামাটির দুর্গম বন্দুকভাঙা রেঞ্জের মারিচুক ও যমচুগ এলাকায় সেনাবাহিনী একটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে চালানো এই অভিযানে ইউপিডিএফ আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র কর্মীদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ে এক সন্ত্রাসী নিহত হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয় এবং সন্ত্রাসীদের একাধিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়।
তবে অভিযানের পরপরই একটি নির্দিষ্ট মহল দাবি তোলে যে, সেনাবাহিনী যমচুগের একটি ভাবনাকেন্দ্র অবমাননা করেছে এবং সেখানে ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। তারা অভিযোগ করে যে, নিরাপত্তা বাহিনী স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করছে। অথচ অভিযানের পর সেনাবাহিনী এলাকা থেকে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র দল—জেএসএস ও ইউপিডিএফ—এর মধ্যে দখল নিয়ে তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়, যার রেশ এখনো কাটেনি। আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
বন্দুকভাঙা এলাকা ভূপ্রকৃতিগতভাবে দুর্গম এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য উপযোগী। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলো এলাকাটিকে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজ্যে পরিণত করেছে। দখলের লড়াইয়ে গত কয়েক বছরে নিজেদের মধ্যকার সংঘর্ষে নিহত হয়েছে বহু সন্ত্রাসী।
এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অভিযান চালায়। তবে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও অস্ত্রবাজির আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতির উত্তরণে নিরাপত্তা বাহিনীই একমাত্র ভরসা। তবে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত করতে অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের সতর্ক থাকা জরুরি মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। তাদের পরামর্শ,  নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে চালানো অপপ্রচার মোকাবিলায় সবাইকে সজাগ থেকে সত্য তথ্য প্রচারে মনোযোগী হতে হবে।

-হাসান মাহবুব, লেখক ও সাংবাদিক