বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের খাদ্য, পুষ্টি ও স্কুল ফিডিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-কে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ডব্লিউএফপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার এই অর্থায়নের মাধ্যমে ৪ লাখ ৬২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। সহায়তার আওতায় রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী এবং লার্নিং সেন্টারে পড়াশোনা করা শিশুরা।

এই অর্থায়নের আওতায় ৩৬ হাজারের বেশি গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী পুষ্টি সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি লার্নিং সেন্টারে অধ্যয়নরত প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় আসবে।
কক্সবাজার ও ভাসানচরে প্রায় ১৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ওপর চাপ বাড়ার মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া এই সহায়তা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত জুলাইয়ে অর্থায়নের ঘোষণা দেয়।
এই অর্থায়ন দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবিক উদ্যোগ ‘রেসপন্ডিং উইথ ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর কনফ্লিক্ট-অ্যাফেক্টেড হাউসহোল্ডস’ (রিচ)-এর দ্বিতীয় পর্যায়েও সহায়তা করবে। ডব্লিউএফপির অংশীদারত্বে বাংলাদেশে সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ডব্লিউএফপির ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গা পরিবারগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার কিনতে পারে। অন্যদিকে পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় অপুষ্টিতে আক্রান্ত গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে লার্নিং সেন্টারে অধ্যয়নরত শিশুদের স্কুলের দিনগুলোতে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার সরবরাহ করা হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক মানবিক প্রচেষ্টায় অবদান রাখার বিষয়ে তার দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, একসময় আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া কোরিয়া প্রজাতন্ত্র এখন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ডব্লিউএফপির সঙ্গে কাজ করতে পেরে গর্বিত। এর মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারাও রয়েছেন।
ডব্লিউএফপির বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দশম বছরে প্রবেশের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, জীবন রক্ষা, মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং শিশু ও পরিবারগুলোর মৌলিক খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে অব্যাহত আন্তর্জাতিক সহায়তা অপরিহার্য।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সংকটের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার জন্য তাদের এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ কোরিয়া ও ডব্লিউএফপি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। ১৯৬৪ সাল থেকে দুই পক্ষের সহযোগিতা শুরু হয়। বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির মানবিক কার্যক্রমে নগদ অর্থ ও পণ্য সহায়তা দিয়ে আসছে সিউল।
সর্বশেষ ৫০ লাখ ডলারের অবদানের ফলে বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির ই-ভাউচার ব্যবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়ার নগদ সহায়তার মোট পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলারে।


